কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিজ কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা খুন হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ সময় একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর। ঘটনাস্থলে থাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিমও শিক্ষিকার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মাড্যাম মারা গেছেন। তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। আর যিনি এ কাজ করেছেন ফজলুর রহমান, তিনি নিজেও আত্মহননের চেষ্টা করেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সে ব্যাপারে পরে জানানো হবে।
এদিকে শিক্ষক ও কর্মচারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আজকে বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। পরীক্ষা হয়েছে। আমরা ইফতারের জন্য কক্ষ গোছগাছ করি। ম্যাম, তার কক্ষেই ছিলেন। তখন হঠাৎ করেই আমার এক বন্ধু বলে, ম্যামের কক্ষ থেকে কিসের যেন আওয়াজ আসছে। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ এরকম আওয়াজ আসছে। দরজা সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা হইছে। তখন দেখলাম, ম্যাম একদিকে পড়ে আছে। আর যে খুন করতে আসছে সে নিজেই নিজের গলা কাটতাছে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, পরে পুলিশ, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আসেন। শিক্ষিকা ও কর্মচারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার পর শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
২৫০ শয্যা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, শিক্ষিকাকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তারপরও ইসিজি করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাত ও রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।