পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে গ্রামের বাড়িতে ছুটে যাওয়ায় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এখন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। ব্যস্ত সড়ক, আবাসিক এলাকা ও বিপণিবিতানগুলোতে কমে গেছে মানুষের উপস্থিতি। তবে এই নির্জনতার মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ-ফাঁকা বাসা-বাড়িতে চুরি ও ডাকাতির আশঙ্কা।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত আবাসিক এলাকাগুলোর অধিকাংশ ফ্ল্যাটই তালাবদ্ধ। পরিবারের সবাই একসঙ্গে শহর ছেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাসা খালি থাকছে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় অনেক এলাকাই জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এ সময়টিকে অপরাধীরা সুযোগ হিসেবে নিতে পারে। ফাঁকা বাসা ও কম জনসমাগমের সুযোগে চোরচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে। এ প্রেক্ষাপটে নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্র জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। আবাসিক এলাকা ও বিপণিবিতানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া এই নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এরই মধ্যে নগরীতে চুরির একটি ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় অবস্থিত আলমাস ভিলা নামের একটি ভবনে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চুরি সংঘটিত হয়েছে। ভবনটি এম ডি সি কলেজ স্কয়ার সংলগ্ন নবাব সিরাজুদ্দৌলা রোডে অবস্থিত।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে। একই ভবনের দুটি পরিবারের বাসা থেকে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র।

ভবনের মালিক হায়দার এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তির আনাগোনার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বাসিন্দাদের দাবি, রাতের বেলায় ফাঁকা বাসার আশপাশে অচেনা লোকজন ঘোরাঘুরি করছে, যা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়াচ্ছে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিএমপি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। বাসা বা প্রতিষ্ঠান ত্যাগের আগে উন্নতমানের তালা ব্যবহার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্ম সিস্টেম সচল রাখা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিরাপত্তাকর্মীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট থানা বা বিট পুলিশকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশ আরও পরামর্শ দিয়েছে-নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী ফাঁকা বাসায় না রেখে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে। প্রয়োজনে ব্যাংক লকার ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসার চারপাশ পর্যাপ্ত আলোকিত রাখা, প্রবেশপথ সুরক্ষিত রাখা এবং জানালার পাশে থাকা গাছের ডালপালা ছেঁটে ফেলার মাধ্যমেও ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে স্থানীয়ভাবে প্রতিবেশীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। মহল্লাভিত্তিক পাহারা বা নজরদারি ব্যবস্থা চালু থাকলে চুরি-ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ঈদের আনন্দের মধ্যেও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এ ধরনের অপরাধ রোধ করতে। নগরবাসীর সহযোগিতা থাকলে ফাঁকা চট্টগ্রামেও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।