স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার শরীফপুর এলাকায় এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাহি সরকার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর খাঁনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মোঃ আমিরুল ইসলাম খাঁনের নেতৃত্বে একটি চক্র মাদক ব্যবসা, জুয়া, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তার দুই ছেলে সজিব ও প্রান্তসহ কয়েকজন সহযোগী এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা নিয়মিত তাদের বাড়ির সামনে কেরাম বোর্ড বসিয়ে জুয়ার আসর বসায় এবং সেখানে মাদক সেবন ও বিক্রি করা হয়। পাশেই একটি ঘরে মহিলারা জামায়াতে তারাবির নামাজ আদায় করলেও এসব কর্মকাণ্ডের কারণে নামাজে বিঘ্ন ঘটে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাননি এলাকাবাসী।

গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় একই স্থানে পুনরায় জুয়া ও মাদক বিক্রির ঘটনা ঘটলে এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাহি সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া লোহার রড, পাইপ ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মাহিকে উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম খাঁন পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সম্প্রতি গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল সিপাইয়ের সহযোগিতায় কৃষকদলের সভাপতি হন। এরপর থেকেই তিনি দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, তার নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা, জুয়া, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকাবাসীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়-এমন কোনো কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।