প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে চোর চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গরু চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে উদ্যেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। অনেকেই রাত জেগে গোয়াল ঘর পাহারা দিচ্ছে। বিগত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১১টি গরু ও তিনটি টিউবওয়েলের হেড, গভীর-অগভীর নলকুপের সাবমার্সেবল মটর বোর্ডের মেইন সুইচের যাবতীয় মালামাল চুরি যাওয়ার তথ্য মিলেছে। জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের এমদাদুল হকের বাড়িতে গরু চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা প্রাচীর টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে সদর দরজা ভেঙ্গে গোয়ালঘর থেকে ২টি গাভী গরু নিয়ে যায়। যার মূল্য ২ লাখ টাকা। ওই রাতে একই গ্রামের নায়েম আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে গোয়াল ঘর থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যের ১টি গাভীন গরু চুরি হয়। গত ১৬ ডিসেম্বর রামপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আল আমিনের গোয়াল ঘর থেকে ২টি গাভীন গাভী গরু চুরি হয়। যার মূল্য ২ লাখ টাকা। গত ২৮ ডিসেম্বর পলাশবাড়ি ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া গ্রামের শরিফুলের গোয়াল ঘর থেকে ১টি গাভীন গাভী ও ১টি বকনা বাচুর চুরি হয়। গরু ২টির মূল্য দেড় লাখ টাকা বলে জানা যায়। গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে রামপুর ইউনিয়নের সিঙ্গীমারী বাবুপাড়া গ্রামের দিপক কুমারের বাড়িতে এক দুঃসাহসিক গরু চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা তালা ভেঙে গোয়াল ঘর থেকে ৪টি বিদেশী উন্নত জাতের গরু চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি যাওয়া গরুর মূল্য সাড় ৪ লাখ টাকা বলে জানা যায়।

সম্প্রতি চন্ডিপুর ইউনিয়নের চৈতাপাড়া গ্রামের আনিছুরের বাড়িতে গরু চুরি সংঘটিত হয়। বাড়ির মালিক টের পেয়ে চিৎকার করলে গ্রামবাসীর ধাওয়ায় চোরেরা ২টি গরু ফেলে পালিয়ে যায়। গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে পলাশবাড়ি ইউনিয়নের প্রামানিকপাড়া গ্রামের আ: মতিন, মতিয়ার রহমান ও সাফিকুল ইসলামের গভীর নলকুপ ও অগভীর নলকুপের ঘরের তালা ভেঙ্গে দেড় লাখ টাকা মুল্যের ৩টি সাবমার্সেল মটর, ৩টি মেইন সুইচ, ওয়ারিংয়ের তামা তারসহ বোর্ডের যাবতীয় মাল চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র। চুরির ঘটনায় জানতে চাইলে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক খান বলেন, আমিও গরু চুরির খবর পেয়েছি তবে এ ব্যাপারে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন চোরকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন গরু চুরির ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ হয়নি।