দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ২৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে আমাদের সিলেট ব্যুরো, ফরিদপুর সংবাদদাতা, শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ও দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান। সংঘর্ষে সিলেটে ৩ জন নিহত ও ২১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ফরিদপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষে আ’লীগ-বিএনপির ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আ’লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৭ জন বলে আমাদের সংবাদদাতারা জানান।

সিলেট ব্যুরো : সিলেট বিভাগের সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ৫টি উপজেলায় ঈদের দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবার পৃথক পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আত্মহত্যায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মাজারের টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক। এ তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক ঘটনায় নারী-শিশুসহ এই ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে ৪টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। অনেককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। ঈদে ছুটি থাকায় পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় আহতরা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে তাদের স্বজনরা জানান।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকায় সিএনজি অটোরিকশার চাপায় মরিয়ম বেগম (০৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার গন্ধা এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মরিয়ম বেগম বানিয়াচং থানার সানঘর গ্রামের তাজুল ইসলামের মেয়ে। সে নবীগঞ্জ পৌরসভার গন্ধা গ্রামে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম বেগম খেলাধুলা করার সময় নবীগঞ্জ থেকে গুমগুমিয়া অভিমুখী একটি সিএনজি (হবিগঞ্জ-থ, ১১-৫৮৪৫) নবীগঞ্জ টু কাজিগঞ্জ বাজার আঞ্চলিক সড়কের গন্ধা পয়েন্টে পৌঁছালে শিশুটি সিএনজির নিচে পড়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়। নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পুকুরের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের খাসজান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বুশরা আক্তার ওই গ্রামের সাঈদুল হকের মেয়ে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার বাড়ির উঠোনে খেলাধুলার একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে পড়ে যায় বুশরা। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। দুপুরের দিকে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, সিলেটে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাবিহা সুলতানা (৩৭) সুনামগঞ্জ সদর থানার ষোলঘর কলোনি রোড এলাকার মৃত মহি উদ্দিন আহমদের মেয়ে। তিনি আম্বরখানা এলাকার শুভেচ্ছা-৮ নং বাসার ৬ তলায় একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। নিহতের স্বামী সরদার মো. ফয়সাল ইমাম বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে চাকরি করেন। তাদের ১০ বছরের এক সন্তানও রয়েছে। জানা যায়, সকাল ৯ টার দিকে সবার অগোচরে সাবিহা সুলতানা ৬ তলা থেকে লাফ দেন। তার দেহটি গিয়ে পার্শ্ববর্তী ৩ তলা বাসার দ্বিতীয় তলার কার্নিশে আটকে যায়। পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিস টিম এসে ওই কার্নিশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, নিহতের ভাই ও স্বামীর সাথে কথা বলে জানা গেছে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসা চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

৪ সংঘর্ষে আহত দুই শতাধিক

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত শতাধিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার পূর্ব তেঘরিয়া দর্জি হাটিতে এ ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে, মাধবপুর উপজেলার মাজারের টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে উপজেলার কালিকাপুর ও গাজীপুর এলাকার বিবাদমান দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার উপজেলার কালিকাপুর বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষ থেকে মাধবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ধান শুকানোর জায়গা নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

অপরদিকে, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্ট দেয়ার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন গুলীবিদ্ধসহ ৪০ জন আহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে আশারকান্দি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সিলেটে মধ্যরাতে বিএনপি ও যুবদলের সংঘর্ষ

সিলেটে বিএনপি ও যুবদলের মধ্যে প্রায় ১ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে নগরীর মেজরটিলা বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহম্মদ সজিব খান।

জানা যায়, সিলেট জেলা বিএনপির এক নেতা ও যুবদল কর্মী কবীরের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের অনুসারীদের মধ্যে মেজরটিলা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এ সংঘর্ষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) রসুল সামদানী আজাদ আপেল বলেন, বিএনপি ও যুবদলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুইপক্ষ বুধবার বিষয়টি মিমাংসা করবে বলে আমাদের জানিয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আহত অর্ধশতাধিক

ফরিদপুর সংবাদদাতা : ফরিদপুরের ভাঙ্গার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আর এই দুটি ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। বর্তমানে সংঘর্ষ এড়াতে উভয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামে ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) বাবর আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য আকরামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঈদের দিন রাতে আকরাম আলী পক্ষের মাজহারুল ইসলাম নামের একজনকে বাবর আলী পক্ষের লোকজন মারধর করে। এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে আকরাম ও বাবর আলী দলের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের প্রায় কয়েক শত সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০/৩৫ জন আহত হন। এ সময় মনসুরাবাদ বাজারের কমপক্ষে ১০/১৫টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত ১৫ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে, উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামের কবির খাঁর সঙ্গে হাবি তালুকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার বিরোধ চলে আসছিল। ঈদের দিন রাতে কবির খাঁর এক আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার পথে হাবি তালুকদারের লোকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি পরে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার উভয় গ্রুপের লোকজন ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে চলা সংঘর্ষ দফায় দফায় রাত ১১টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ২০ জন আহত হন এবং দুই পক্ষের ছয়টি বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের গুরুত্বর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে বুধবার ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পৃথক স্থানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয়স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শার্শায় সংঘর্ষে ৩ জন আহত

শার্শা যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের শার্শায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাযের সময় পরিবর্তন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে সোমবার সকালে শার্শা উপজেলার বেড়ি-নারায়নপুর গ্রামে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন আব্দুর রশিদ, আইতালী ও শাহাজান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদগাহ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ঈদের নামাযের সময় ১০ মিনিট বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে ক্যাশিয়ার আব্দুর রশিদ ইমাম সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করলে, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে একই গ্রামের মোখলেছুর রহমান, আব্দুল আজিজ ও আব্দুল আলিম দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়। এতে রশিদ, আইতালী ও শাহাজান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে শার্শা থানার শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম রবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই। থানায় অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গুলীবর্ষণে এলাকায় আতঙ্ক

দৌলতপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৭

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার জের ধরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলীবর্ষণ, কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও গবাদি পশু লুট করার অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার ঈদের দিন রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে সংঘর্ষ, গুলীবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটেছে।

দৌলতপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ঈদের দিন বিকেলে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভারত সীমানা ঘেঁষা জলঙ্গী সীমান্ত ট্যাকে ঘুরতে যায় চরপাড়া এলাকার একদল নারী ও পুরুষ। এসময় মীম নামে এক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে একই এলাকার ৭-৮ জনের একদল যুবক। বাড়ি ফিরে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা পরিবারের লোকজনকে জানালে চরপাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম এবং আমজাদ মন্ডলের নেতৃত্বে এলাকার লোকজন উত্ত্যক্তকারী ওই সকল যুবকদের মারপিট করে। মারপিটের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওইদিন রাত ৮টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব মেম্বর ও তুফাজ্জেলের নেতৃত্বে ৩০-৩৫জন সশস্ত্র সংঘবদ্ধ হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলীবর্ষণ করলে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ৮-১০ রাউন্ড এলোপাতাড়ি গুলীবর্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশরাফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও আমজাদ মন্ডলসহ বিএনপি পরিবারের লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব মেম্বর, তুফাজ্জেল হোসেনের নেতৃত্বে হামলাকারীরা আশরাফুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে ৭টি গরু ও ২টি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষের খবর পেয়ে রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হলে আশরাফুল ইসলাম (৫৭), শাহাব উদ্দিন (৫৫), বাচ্চু (৫০) ও সাব্বির হোসেন (২২) কে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলা, লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই।