পচা মাংস, অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর এবং বিরিয়ানি খেয়ে গ্রাহক অসুস্থ হওয়ার অভিযোগে যশোর শহরের আরএন রোডে অবস্থিত খাবারের হোটেল ‘ক্যাফে নূর’-এ অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অভিযানে পচা মাংস, অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর এবং বিরিয়ানি খেয়ে গ্রাহক অসুস্থ হওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ক্যাফে নূর থেকে ২৪ প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে নেন কয়েকজন গ্রাহক। পরবর্তীতে সেই খাবার গ্রহণের পর তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হোটেলটিতে আকস্মিক অভিযান চালায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের ফ্রিজে সংরক্ষিত রয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত বাসি ও পচা মাংস। রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এছাড়া বিরিয়ানি প্রস্তুতে ব্যবহৃত উপকরণগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম বা মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
অভিযানকালে আরও দেখা যায়, রান্নাঘর জুড়ে তেলাপোকার অবাধ বিচরণ রয়েছে এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্ষতিকর পোড়া তেল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘন এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হোটেলটির মালিক মুকুল হোসেন বকুলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠান খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #