গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের সময় এক কিশোর কর্মচারীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক হোটেল ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় জড়িত এক দম্পতি ও তাদের সন্তানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালি (৫৫)। তিনি কালীগঞ্জ থানার চান্দাইয়া এলাকার নির্মল চন্দ্র ঘোষ ওরফে কালুর ছেলে এবং বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেলের মালিক। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার একদিন আগে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বালীগাঁও এলাকায় স্বপন মিয়ার কলাবাগান থেকে একটি কলার ছড়ি চুরি হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্বপন মিয়ার ছেলে মাসুম মিয়া ওই হোটেলে গিয়ে একটি কলার ছড়ি দেখতে পেয়ে সেটি তাদের বাগান থেকে চুরি হওয়া বলে দাবি করেন। এ নিয়ে হোটেলের কিশোর কর্মচারী অনন্ত দাস (১৭)-এর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এ সময় মাসুম মিয়ার বাবা মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (৫৫) ও মা মাজেদা খাতুন (৪৫) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হোটেল মালিক কালি ঘোষ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তার মুখ ও বুকে গুরুতর আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
আটককৃতরা হলেন মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৪৫) ও ছেলে মাসুম মিয়া (২৮), সকলের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার বালীগাঁও এলাকায়।
এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার, মোঃ শরিফ উদ্দিন বলেন, 'এটি একটি দুঃখজনক ও বিচ্ছিন্ন ফৌজদারি ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বা সংখ্যালঘু সংশ্লিষ্ট বিষয় নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কেউ যেন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। অপরাধ যেই করুক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
কালীগঞ্জ ওসি মোঃ জাকির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে এবং তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নিহতের মুখ ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুকে আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।