আশুলিয়ার শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলসহ তিনজনকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার রাজনৈতিক কার্যালয় ও বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতার জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল আশুলিয়ার শ্রীপুর তালপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ধামসোনা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে তিনি ঢাকা–১৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেও পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আশুলিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী তৎপরতা নতুন করে সক্রিয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, ডিইপিজেড থেকে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত ফুটপাত ও ব্যবসা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করতেন জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল। তার নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাইপাইল, ইপিজেড, ভাদাইল, শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড, মাদ্রাসা মাঠ ও শ্রীপুর কাপড়ের মার্কেট এলাকায় নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। গ্রেফতারের খবরে ওইসব এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রুবেল হোসেন বলেন,
“আমি এই থানায় যোগদানের পর থেকে কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হয়নি। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে—মামলা নম্বর ২১(২)২৬, তারিখ ০৫/০২/২৬। আসামিদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযান আশুলিয়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের রাজনীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিরই প্রতিফলন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।