আলোচিত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর মামলার তদন্তে গুরুতর অনিয়ম ও আইনগত গাফিলতির অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহদী এ নির্দেশ প্রদান করেন।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং মামলার রিভিশন আবেদনকারী আইনজীবী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান কামাল জানান, গত ৫ জানুয়ারি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানিকালে সুরভীর জন্ম নিবন্ধন কার্ড উপস্থাপন করা হয়, যেখানে তার বয়স ১৭ বছর ১ মাস উল্লেখ ছিল। তা সত্ত্বেও আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে আদালত প্রশ্ন তোলেন-বয়স যাচাই ছাড়া কেন রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করেন বিচারক।

ওই দিনই সুরভীর পক্ষে জেলা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত রিমান্ড আদেশ বাতিল করে সুরভীকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। এর ফলে সেদিন রাত আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান সুরভী।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে শোকজের জবাব দাখিল করলে আদালত তা সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন এবং তদন্ত-পূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। একই দিনে এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনাও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়।

এ প্রসঙ্গে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন, তবে এখনো আদালতের লিখিত নির্দেশ হাতে পাননি। নির্দেশনা হাতে পেলে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সুরভীর বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়েও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো এবং যথাযথ যাচাই ছাড়াই রিমান্ড আবেদন করায় কালিয়াকৈর থানার মৌচাক ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

উল্লেখ্য, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানায় নাইমুর রহমান দুর্জয় নামের এক যুবকের দায়ের করা মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীতে নিজ বাসা থেকে যৌথ বাহিনী সুরভীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানা হয়ে কালিয়াকৈর থানায় হস্তান্তর করে আদালতে হাজির করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটিতে সুরভীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং ব্ল্যাকমেইলিংসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বয়স, রিমান্ড ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের কঠোর অবস্থান মামলাটিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।