কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আগামী ২০ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বহাল রেখেছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে পূর্ণ কমিশন সভায় মিলিত হন শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
কমিশন সভায় জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে আলোচনা করেন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধ দল। সেখানে আগামী ২০ জানুয়ারি পূর্ব নির্ধারিত শাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করেন ভিসিসহ বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল।
আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শাকসু নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের আশ^াস দেন। শাকসু নির্বাচনে ইসির বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না, এমন বিষয়টি জানান কর্মকর্তারা। পরে রাত ৮টার দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুকে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে চলমান অস্থিরতা নিয়ে শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ ফুল কমিশন সভায় আলোচনায় মিলিত হন। সভায় শাকসু নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিইসি আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন। সভায় শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও ভাইস চ্যান্সেলরের একান্ত সচিব ড. এ এফ এম সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিশ^বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ^াস দেওয়া হলেও রাত ১০ টা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে জানালেও তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে এখনও তারা আশ^স্ত হতে পারছেন না। তাই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতভর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শাকসুর দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। দফায় দফায় বৈঠকের পরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে শাকসু নির্বাচন নিয়ে ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানানোর আশ^াসে ভোরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি রাতভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর মঙ্গলবার ভোরে শিক্ষার্থী, শাকসু নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি নাÑসে বিষয়ে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ জানাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
এদিকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ৩টি শর্তে লিখিত দিলে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে বলে জানানো হয়েছে। শর্তগুলো হলো- নির্বাচনকালীন কোনো অকারেন্স হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না। জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। প্রার্থীদের এই শর্তগুলোর উপরে লিখিত স্বাক্ষর করা লাগবে। তবেই শাকসু করতে বাধা থাকবে না।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। একই সাথে তারা দাবি জানিয়েছে বিনা শর্তে আজকেই ঘোষণা করতে হবে আগামী ২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে।
সিলেটে র্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় বিস্ফোরক উদ্ধার
সিলেট ব্যুরো : সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে ২৮টি ভারতীয় পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে র্যাব-৯। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে জৈন্তাপুরের কাটাগাং এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে একটি বালুমহালের নিকট পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে.এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ।
র্যাব-৯ সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর থেকে ১৪টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও ১৪টি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটর উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যা নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
র্যাব আরও জানায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে র্যাব-৯ সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ৩৬টি দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৪ হাজার ৬৩০ গ্রাম বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর, সাউন্ড গ্রেনেড ও পেট্রোল বোমাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানের ফলে সিলেট বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব-৯ এর মিডিয়া কর্মকর্তা এ কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, উদ্ধারকৃত ১৪টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও ১৪টি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিডিমূলে জৈন্তাপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে র্যাবের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।