জাতীয় শিক্ষাসপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবারও দেশের শিক্ষাঙ্গনে গৌরবের ইতিহাস রচনা করলো মরহুম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্রতিষ্ঠিত খুলনার ঐতিহ্যবাহী দারুল কুরআন সিদ্দিকা কামিল মাদরাসা নামক প্রতিষ্ঠানটি। গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে মাদরাসা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয় এ প্রতিষ্ঠানটি। ফলাফল ঘোষণার মুহূর্তে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের সাধনা পরিশ্রম আর ত্যাগের ফল হিসেবে এই স্বীকৃতি যেন সবার হৃদয়ে এনে দেয় গর্ব আর অশ্রুসিক্ত আনন্দ। অধ্যক্ষের হাতে সম্মাননা, আবেগে ভাসে প্রাঙ্গণ স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক মো. রেজাউল ইসলাম রেজা, ঢাকার সিদ্দিকীয়ান কৃতি শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, হেলালুজ্জামান, শরিফুল ইসলামসহ শুভাকাক্সক্ষীরা।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরীর রফিকুল ইসলাম আবরার। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
খুলনা বিভাগের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় দারুল কুরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসাটি খুলনার মানচিত্রে সোনাডাঙ্গা থানাধীন হাজী ইসমাইল রোডে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। এখানে আলিয়া মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর কামিল শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। এর আগেও ২০০১, ২০০৪ ও ২০১৯ সালে জাতীয় পর্যায়ে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৮৩ সালে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে খুলনা শহরের অন্যতম বৃহৎ আলিয়া মাদরাসা হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানে দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি খুলনা বিভাগে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
খুলনা শহরে মাদরাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে দারুল কুরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসাটি। প্রতিষ্ঠার পরপরই শিক্ষা মান ও শৃঙ্খলার কারণে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০৬ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার অধিভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ফাজিল ও কামিল শ্রেণি সাধারণ স্নাতক ডিগ্রির সম্মান একজন লাভ করে। ২০১৬ সালে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে মাদরাসাটি সেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়।