সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা : ফেনীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল মাদরাসায় কোটি কোটি টাকা ডোনেশন দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির গাইড বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেলার প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড (এনসিটিবির) বইগুলো পাঠ্য তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে স্কুল-মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা গাইড কোম্পানিগুলো থেকে মোটা দাগে ম্যানেজ মানি (ডোনেশন) ও নানা উপঢৌকন নিয়ে সরকারীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন কোম্পানীর গাইড বই, নোট বই ও সহায়ক নামীয় বইগুলো পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা গুলোতে বিভিন্ন গাইড কোম্পানির সরবরাহকৃত সিলেবাস ও প্রশ্নের আলোকেই পরীক্ষাসমূহ সম্পন্ন করেছে। গাইড বই ও সহায়ক বইগুলো পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষকদের সৃজনশীলতা ও পাঠদান পদ্ধতি। এমতাবস্থায় মাধ্যমিক স্তরের স্কুল-মাদরাসায় শিক্ষার মান চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সচেতন অভিভাবকরা বলছেন, এসব গাইড বই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা শক্তি ও লেখার দক্ষতা নষ্ট করছে। গাইড নির্ভর পড়া-লেখা ও পরীক্ষা সমূহ চালু করায় পড়া লেখার গুনমান দিন দিন চরম অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে। ফলে জেলার হাজার হাজার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতে শিক্ষা নিয়ে চরম আতংক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রনালয়, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বহু আগেই এসব বই ও সহায়ক পুস্তক ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় ও যথাযথ তদারকির অভাবে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানরা ডোনেশনের বিনিময় গাইড বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সচেতন অভিভাবক, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন পুস্তক ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, জেলার এমপিও ভুক্ত ৩ শতাধিক স্কুল-মাদরাসায় মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সমিতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বাৎসরিক ডোনেশন নিয়ে বিভিন্ন গাইড, নোট বই ও সহায়ক বই প্রকাশনার গাইড বই, সহায়ক বই পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্কুল-মাদরাসায় গিয়ে দেখা গেছে যে, তাদের পাঠ্য তালিকায় কোন এনসিটিবি’র বই নেই। অথচ সরকার শত শত কোটি টাকা খরচ করে বছরের প্রথম তারিখে মান সম্মত বিনামূল্যের সরকারী পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছেণ। কিছু অসাধু পুস্তক ব্যবসায়ী অসাধু শিক্ষক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই সর্বনাশ সংঘঠিত হচ্ছে। পাঠ্যক্রম ও পাঠ্য সূচিতে বিভিন্ন প্রকাশনার গাইড বই পাঠ্য তালিকায় রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীন, ষাম্মাসিক, টিউটোরিয়াল ও বার্ষিক পরীক্ষা সমূহের প্রশ্নপত্র মূলতঃ গাইড বইয়ের আলোকেই প্রণীত হচ্ছে। ফলে এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেশী দামে গাইড বই কিনতে না পেরে ঠিকমতো শ্রেণী কার্যাক্রম ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এতে করে মাধ্যমিক স্তরে অভ্যন্তরীন মাসিক, ষাম্মাসিক ও বার্ষিক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এদিকে আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে আরো বেশি পরিমাণে গাইড বই বাজারজাত করতে মাদরাসা পর্যায়ে লেকচার পাবলিকেশন, আলফাতাহ প্রকাশনা, আল আরাফা প্রকাশনা, আল ইমতেহান প্রকাশনা, দারসুন পাবলিকেশন স্কুল পর্যায়ে পাঞ্জেরী, অনুপম, পপি, লেকচার পাবলিকেশন সহ আরো নাম না জানা প্রকাশনী গুলো মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডোনেশন প্রদান সহ নতুন নতুন কলা কৌশল অবলম্বন করেছে । তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ৩০, ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর ফেনী জেলার দুই শতাধিক পুস্তক ব্যবসায়ীদের নিয়ে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি ফেনী জেলা শাখার ব্যানারে লাখ লাখ টাকা প্রনোদনা দিয়ে “সমুদ্র বিলাস কক্সবাজার ২০২৫” (আনন্দ ভ্রমণের) আয়োজন করেছে। এ ফ্রি বিলাস ভ্রমণের উদ্দেশ্য একটাই তা হচ্ছে বিপুল পরিমাণে গাইড বই বাজারজাত করা। সোনাগাজী উপজেলার জসিম উদ্দিন ও আবুল কালাম নামের দুই অভিভাবক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের দুই ছেলে মাদরাসায় ৬ষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণীর একসেট লেকচার গাইড ১২০০ টাকা আর অষ্টম শ্রেণীর একসেট লেকচার গাইড ১৫০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। তাদের মত গরিব লোকদের পক্ষে এ গাইডের টাকা যোগান দিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষকরা চাপ সৃষ্টি করে এই গাইড বই গুলো কিনতে বাধ্য করেছে। কেননা শিক্ষকরা বলেছেন, গাইড থেকে আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বেশ কিছু স্কুল-মাদরাসার শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বছরের শুরুতে বিভিন্ন গাইড ও প্রকাশনা কোম্পানির পক্ষ হতে স্কুল-মাদরাসার প্রধানদের মোটা অংকের ম্যানেজ মানি (ডোনেশন) দিয়ে বিভিন্ন গাইড বই পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গাইড ও প্রকাশনা কোম্পানির পক্ষ হতে বিনামূল্যে সিলেবাস বই, ষাম্মাসিক, বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। গাইড কোম্পানিগুলো থেকে সংগ্রহকৃত প্রশ্ন দিয়ে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাসমূহ সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। পরীক্ষায় যেহেতু গাইড বইয়ের আলোকেই প্রশ্নপত্র প্রনয়ন হয়েছে, তাই শ্রেণীতে গাইড বই ছাড়া এনসিটিবি’র কোন বই পড়ানো হয় না। তারা আরো জানান, গাইড বই কোম্পানির প্রশ্ন দিয়ে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা গুগোল ও ইউটিউব থেকে অগ্রিম প্রশ্ন পত্র ডাউনলোড করে উক্ত প্রশ্নের আলোকেই পরীক্ষা কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছে । এমতাবস্থায় সহজেই অনুমেয়, আমাদের পাঠদান ও পরীক্ষার মান কোথায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ফেনী জেলা সেক্রেটারি ও ফকির হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর আহাদ চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোন অবস্থাতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে বোর্ড বই ব্যতিরেকে কোন গাইড বই কিংবা সহায়ক বই পাঠ্য করা যাবে না। এ বিষয়টি আমরা সমিতির পক্ষ হতে ঘোষণা দিয়েছি। কিন্তু শুনতে পাচ্ছি, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ডোনেশন নিয়ে গাইড বই কিংবা সহায়ক বই পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছেন এটা অন্যায়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে ৫০ জন প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজনও করেছি।
সোনাগাজী উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বক্তারমুন্সি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলনা নুরুল আবছার ফারুকী জানান, এই বিষয়টি বড়ই আপত্তিকর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাইড বই নির্ভর পড়া-লেখা এবং পরীক্ষা কার্যক্রম চালু থাকায় শিক্ষার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এতে মাধ্যমিক ও দাখিল পর্যায় থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে উঠছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিভাবে গাইড ও সহায়ক বই বন্ধ করা যায় এ ব্যপারে আমাদের শিক্ষক সমিতির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২ মার্চ ২০২০ইং সালের সচিব মো: আকরাম আল- হোসেনের স্বাক্ষরিত এক পরিপত্র সূত্রে জানা গেছে, সরকার কর্তৃক ১ম হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের গাইড/ নোট বই/শিক্ষা সহায়িকা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও প্রাথমিক শ্রেণির জন্য রচিত ও প্রকাশিত বিভিন্ন গাইড/নোট বই শিক্ষা সহায়িকা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা ও শিক্ষকগণ কর্তৃক কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের তা ব্যবহারের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। সকল শিক্ষক- শিক্ষার্থীদেরকে নোট ও গাইড বই ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এসকল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত শিক্ষক/ শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কোন কর্মকর্তা/শিক্ষক/ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান এরুপ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকে তাহলে প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিলের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
ফেনী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফী উল্লাহ জানান, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ হতে এতদ্বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিপত্র জারি করেছে সরকার। সেখানে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে যে, কোন আবস্থাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্য তালিকায় গাইড বই, নোট বই সংযুক্ত করা যাবেনা, কোন গাইড বুকের ব্যাপারে সাজেস্ট করা যাবেনা এবং গাইড বই থেকে পরীক্ষার জন্য কোন প্রশ্নও করা যাবেনা। যে-সকল প্রতিষ্ঠানে গাইড বই পাঠ্য তালিকার রয়েছে ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
ফেনী জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় বিগত সময়ে কর্মরত এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার কাজি সলিম উল্লাহ উল্লেখ করেন মাধ্যমিক স্তরের স্কুল, মাদ্রাসায় কোন অবস্থাতেই সরকারী পাঠ্যপুস্তকে পাশকাটিয়ে নোট বই, গাইড় বই ব্যবহার করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিক্ষকগণ নিজেদের প্রশ্নপত্র নিজেরাই প্রনয়ন করবেন (পাবলিক পরীক্ষা ব্যাতিত)। কোন অবস্থাতেই বাহির থেকে ক্রয় করা প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকার পৃষ্ঠা নং-২, নির্দেশনা নং-৩ দ্রষ্টব্য)। অতএব শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।
চলতি বছর ২০২৫ শিক্ষা বর্ষের (গত বৃহস্পতিবার) থেকে ফেনী জেলার মাদরাসাগুলোতে ডোনেশনের প্রশ্ন দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন গাইড প্রকাশনীর ডোনেশনকৃত সিলেবাসের আলোকে প্রণীত এ সকল প্রশ্ন দিয়েই বার্ষিক পরীক্ষার আঞ্জাম চলছে বলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের থেকে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, বছরের শুরুতে বিভিন্ন প্রকাশনী (গাইড কোম্পানীর) সাথে মাদরাসাগুলোর গাইড বই পাঠ্যের ব্যপারে অলিখিত চুক্তি হয় মোট অংকের ডোনেশনের বিনিময়ে। তারই আলোকে জেলার বিভিন্ন মাদরাসায় বিভিন্ন গাইড প্রকাশনীর সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়ে সারা বছর উক্ত প্রকাশনীগুলোর গাইড বইয়ের মাধ্যমে পাঠদান করা হত। সে হিসাবে বার্ষিক পরীক্ষাগুলোতে উক্ত প্রকাশনীর ডোনেশনকৃত প্রশ্ন দিয়ে স্ব-স্ব মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সোনাগাজীর দারোগার হাট আল জামেয়াতুদ দ্বীনিয়া আলিম মাদরসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাও. করিমুল হক জানান, চলতি বছর তার মাদরসার সাথে “দারসুন” প্রকাশনীর অলিখিত চুক্তি হয়েছে ডোনেশনের মাধ্যমে। তাই উক্ত “দারসুন” প্রকাশনীর প্রশ্ন দিয়ে তার মাদরাসায় ২০ নভেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অপরদিকে পরশুরাম উপজেলার সুবার বাজার ফাজিল মাদরসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ছাদেক জানান, তার মাদরাসায় “আল ফাতাহ” প্রকাশনীর ডোনেশনকৃত প্রশ্ন দিয়েই বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি সাংবাদিকদে জানিয়েছেন।
সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, তাদের মাদরাসায় “লেকচার” প্রকাশনীর ডোনেশনকৃত প্রশ্ন দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষার সব আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ হতে এনসিটিবি’র বই পাঠ্য তালিকা ছাড়া অন্য কোন বই পাঠ্য তালিকা কিংবা সহায়ক বই পাঠ্য তালিকায় না রাখার নির্দেশনা থাকলেও ফেনীতে কোন মাদরাসায় সে নির্দেশনা মান হয়নি। অপর দিকে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান নিজেরা প্রশ্ন প্রণয়ন করে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও কোন সরকারী নীতির তোয়াক্কা করছে না। ফলে শিক্ষার মান নিয়ে পুরো জেলায় প্রশ্ন উঠছে।