জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সেবামূলক ও সামাজিক শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কর্মকাণ্ডে বছরজুড়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা। কেবল অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেই নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও রাজপথে সবসময় সোচ্চার ছিল সংগঠনটি। বছরব্যাপী এমন পরিকল্পিত ও কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে প্রশংসিত হয়েছে সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে বছরজুড়ে বৈচিত্র্যময় আয়োজন করেছে সংগঠনটি। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষাদিবস উপলক্ষে আন্তঃহল সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ৩ শতাধিক ক্যাম্পাসপড়ুয়া হাফেজে কুরআন ও পার্শ্ববর্তী স্কুল-মাদ্রাসার হাফেজদের সংবর্ধনা। পাশাপাশি এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিমে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া মাতৃভাষা দিবস ও মাহে রমজান উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা, ‘ইসমাঈল আল-জাজারি বিজ্ঞান উৎসব’ এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে লক্ষাধিক টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে পবিত্র রমজানে ক্যাম্পাসে গণইফতার, ইফতারি বিতরণ ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনটি। ঈদুল আজহায় ক্যাম্পাস ও মেসে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যাহ্নভোজ ও কুরবানির গোশত বিতরণ এবং ঈদুল ফিতরে শতাধিক পরিবারে ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়। নববর্ষে প্রকাশনা উৎসব ও শীতকালীন শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালিত হয়।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে শিবিরের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ওয়ালিউল্লাহ-আল মুকাদ্দাস স্মৃতি শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’, ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফ্রেশার্স শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ভলিবল টুর্নামেন্ট ২০২৫’-সহ বছরজুড়ে হলভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।
সামাজিক সেবা ও সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে আহত শিক্ষার্থীদের মেডিকেলে দেখতে যাওয়া, ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আগত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন ও সহযোগিতা প্রদান এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে পরিবহন সুবিধা নিশ্চিতকরণ। এছাড়া প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ডেস্ক ক্যালেন্ডার বিতরণ করে সংগঠনটি।
তাছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে ছিল ক্যাম্পাস সংস্কার, সাজিদ হত্যার বিচার, গুমের শিকার ওয়ালিউল্লাহ-আল মুকাদ্দাসের মুক্তি, নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও র্যালি আয়োজন। ফিলিস্তিনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১১ মার্চ, বদর দিবস, ৫ মে, জুলাই বিপ্লব, শহীদ আবরার দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনটি। শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও এই কার্যক্রমের অংশ ছিল।
এছাড়াও হাজারও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম, সাংবাদিক ও অমুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীসংশ্লিষ্ট ও ক্যাম্পাস সংস্কারে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা হয়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থীকে নানাবিধ উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করে নিয়েছিল সংগঠনটি।
ছাত্রশিবির ইবি শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে ছাত্রকল্যাণমূলক যত কাজ করা দরকার এবং ছাত্রসংগঠন হিসেবে যেভাবে রুলস মেনে চলা প্রয়োজন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আল্লাহ যতটুকু সুযোগ দিয়েছেন, ততটুকু আমরা করতে পেরেছি। এ বছর আমাদের পরিকল্পনার অনেক বিষয় বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, আর কিছু বিষয় সময়স্বল্পতা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আশা করি সেসব পরিকল্পনাও আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে পারব, ইনশা আল্লাহ। পুরো বছরজুড়ে আমাদের পাশে থেকে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে যারা যেভাবেই আমাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।