ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ এবং কেয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে, এ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের আর ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মুস্তাফিজুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও বটতলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতা ও নাশকতার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জাকসুর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ মিছিলে একথা বলেন তিনি।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আজকের এই ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লগি-বইঠা তান্ডবের মাধ্যমে ২০০৬ সালে ফ্যাসিবাদের সূচনা করেছিল। ঠিক এই দিনেই আবার সেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এটা আমাদের এবং একইসাথে প্রশাসনের জন্য লজ্জার। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ, ছাত্রলীগ কেয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে। এ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের আর ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

এর আগে রাত নয়টায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অপতৎপরতা বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে শাখা ছাত্রদল, বিক্ষোভ মিছিল টি এমএইচ গেইট থেকে ডেইরি গেইট হয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের বটতলা হয়ে রবীন্দ্র চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। একই সময় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রাত দশটায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে জাকসুর সাধারন সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে আওয়ামীলীগ তার রক্তপিপাসু রুপ দেখানোর মাধ্যমে তাদের ফ্যাসীবাদি যাত্রা শুরু করেছিল। তারপর নয় সালের পীলখানা হত্যাকান্ড, তেরো'র গণহত্যা, এবং ২৪ এর গণহত্যার মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী রক্তপিপাসার সিলিসিলা বজায় রেখেছিল। আমরা আজ দেখেছি ছাত্রলীগ নামের কিছু কুলাঙ্গার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে সামনে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে সন্ত্রাসীদেরকে আমাদের চব্বিশের শহীদেরা রক্ত দিয়ে নিষিদ্ধ করেছে তারা আজীবন নিষিদ্ধই থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলতে চাই আপনাদের গাফিলতির কারনেই ছাত্রলীগ আজ নাশকতা পরিকল্পনা করার সুযোগ পাচ্ছে। আপনারা অতিদ্রুত ছাত্রলীগের শেল্টারদাতাদের চিহ্নিত করুন, অপরাধীদের বিচার করুন। অন্যথায় ছাত্রলীগ পুণর্বাসনের দায় আপনাদেরকে নিতে হবে।

জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর আগেও আমরা জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার নিয়ে সোচ্চার ছিলাম, জাকসুতে নির্বাচিত হওয়ার পরেও আমরা বিচারের দাবি থেকে এক চুলও সড়ে আসিনি। জুলাই হামলার বিচারের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিতে যেসকল শিক্ষক রয়েছেন, তারা যদি জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা না করেন, তহলে আমরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একশনে যাওয়ার আগে আপনাদের বিরুদ্ধে একশনে যাব।”

এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আর কখনো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসের ত্রিসীমানায় কোনো ধরনের কর্মসূচি দেয়ার দুঃসাহস দেখান, তাহলে আপনারা এখান থেকে জীবিত হয়ে মায়ের কোলে ফিরে যেতে পারবেন না। এখনো আমাদের অনেক মায়ের সন্তান বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে আছেন, অনেক জুলাই যোদ্ধা এখনো হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে, আর আপনারা এখানে মানববন্ধন করার দুঃসাহস দেখান, আপনাদের দুঃসাহসকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করবো আমরা।”

শাখা ছাত্রশক্তির নেতা ও জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবীব বলেন, এনাম ও সোহলের মতো ছাত্রলীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা এই ক্যাম্পাসে প্রধান ফটকের সামনে মিছিল করে কিন্তু প্রক্টর অফিস এ বিষয়ে অবগত না, প্রক্টর অফিস কেনো জানে না নিরাপত্তা অফিস কেনো জানে তাহলে আমরা ধরে নিবো সেই নিরাপত্তা অফিসের ইন্ধনে সেই প্রোগ্রামগুলো হচ্ছে। আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসের কাজ হলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই নিরাপত্তা অফিসারদের আমরা দেখেছি জুলাই আন্দোলন কারীদের তথ্য ছাত্রলীগের কাছে বিলিয়ে দিতে। আন্দোলন কারীরা কোথায় আছে তাদের সেই তথ্য পৌঁছে দিতো ছাত্রলীগের কাছে যাতে আমরা হামলার শিকার হই সেই ব্যবস্থা নিরাপত্তা অফিসাররা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের উচিত নিরাপত্তা অফিস থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এই দালালকে সরানো এবং উপাচার্য অফিস থেকে আওয়ামী পান্ডাগুলোকে সরানো।