ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ২৫-৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ এবং নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ফেসবুকে গ্রুপে এ ঘোষণা দিয়েছেন সর্ব মিত্র চাকমা। পরে নিজের ফেসবুক পেজেও এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

সর্ব মিত্র চাকমা লিখেছেন, ‘আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণ সহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই, নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল-মানিব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরিসহ প্রায়ই বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়।’

ডিএমসি (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) সংলগ্ন দেয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেয়াল টপকিয়ে ঢোকে বহিরাগতরা, এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গতমাসে, সে সময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়, আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতা সহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই।’

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, ‘এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের উর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়-নিরাপত্তা বিধানে, যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই। আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি।’