আবুল বশর ছিদ্দিকী, বান্দরবান জেলা সংবাদদাতা
অবকাটামো সংকট ও আবাসিক হোষ্টেলের স্বল্পতার দরুন বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া কষ্টকর হলেও সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক দৃষ্টিনন্দন বহুতল শিক্ষা ভবন ও হোষ্টেল নির্মানের ফলে পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছেলে মেয়েরা আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষাসহ ধর্মীয় শিক্ষায় অগ্রসর হতে চলছে। ইতিমধ্যে জেলার অভ্যন্তরে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ সুত্র জানিয়েছে।
বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিসের এক প্রতিবেদনে জানা যায় জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা সমুহে ৩৯৭৪৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে যা অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
পার্বত্য জনপদের অবহেলিত জেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বান্দরবানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে।
নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৭.৬২ কোটি টাকার দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র সহ চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মিত প্রতিষ্ঠানগুলো হল যথাক্রমে, ১)বালাঘাটা বিলকিস বেগম উচ্চ বিদ্যালয়, ২) ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, ৩) লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৪) ফাসিয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়, ৫) গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ,৬) আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৭)বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়, ৮)ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়, ৯) চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে। ১০)সরই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাজ এখন চলমান রয়েছে।
নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৫.১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্রসহ বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো যথাক্রমে, ১) রাজভিলা উচ্চ বিদ্যালয়, ২) সুয়ালক উচ্চ বিদ্যালয়, ৩)সাঙ্গু উচ্চ বিদ্যালয় , ৪)চেমি ডলুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ৫)রেইছা উচ্চ বিদ্যালয়, ৬)রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, ৭) চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮) লামা মুখ উচ্চ বিদ্যালয়, ৯) নাইক্ষ্যংছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১০)বলিপাড়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয় একাডেমিক ভবন এর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনগুলো তাদের একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করছে। "নির্বাচিত মাদ্রাসা উন্নয়ন" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২ টি মাদ্রাসায় ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, এবং ১ টি মাদ্রাসায় বিদ্যমান একতলা একাডেমিক ভবনের উপরে দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ তলা উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভবনগুলো ব্যবহার করছে বাকি ৩ টি ভবন এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্পন্নকৃত মাদ্রাসা ভবনগুলো হচ্ছে ১) লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, ২) বাইশারী শাহ নুরুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, এবং ৩) মদিনাতুল উলুম মডেল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ।
বর্তমানে কাজ চলমান মাদ্রাসা ভবনগুলো হচ্ছে, ১) আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, ২) চাক ঢালা মহিউচ্চুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার চারতালা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ এবং ৩) লাইনঝিরি মোহাম্মদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ। এই ছয়টি একাডেমিক ভবনের নির্মাণে ব্যয় প্রায় ১৪.০৮ কোটি টাকা।
"দেশের ১০০ টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ (টিএসসি) স্থাপন" প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন সহ একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে যার নির্মাণ ব্যয় ১৪.৪৪ কোটি টাকা।
"কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধিন ৬৪ টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করন" প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ১০.১০কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাততলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে।
"সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬৫.১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলার ৮ টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ঠ হোস্টেল ভবন নির্মাণ, এবং বিদ্যমান একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ১) রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছয় তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ ও বিদ্যমান একতলা একাডেমিক ভবন এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে, বিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ সেগুলো একাডেমিক কাজে ব্যবহার করছে। ৫ তলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। ২) থানচি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ছয় তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে, ৫ তলা হোস্টেল ভবন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। ৩) রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছয় তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে এবং ৫ তলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজটি প্রায় সমাপ্তির পথে। ৪)লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ এবং ৫ তলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে এছাড়াও একতলা একাডেমিক ভবনের উপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ৫) নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছয় তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজটি এগিয়ে চলছে, হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে। ৬) আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজটি প্রায় সমাপ্তির পথে, ৫ তলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ৭) বান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর উপজেলায় বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজটি ইতিমধ্যে দৃশ্যমান পর্যায়ে রয়েছে, ৫ তলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজটির পাইলিং এর কাজ শেষ হয়েছে এবং পরবর্তী নির্মাণ কাজটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে। ৮) বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পথে, তাছাড়াও বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যমান ১ তলা একাডেমিক ভবনের উপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজটি সমাপ্ত হয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাজে ব্যবহার করে আসছে।
সরকারি কলেজ সমূহে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজে ৭.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ৬ তলা একাডেমিক ভবন। নির্মাণ কাজ যা ইতোমধ্যে প্রায়
সমাপ্তির পথে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে তার দপ্তরের সকল জনবল সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।