ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদ থেকে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর নতুন ভিসি নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন। আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নাম।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন পাঠদান ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রশাসনিক কাঠামোতে কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ, শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম জোরদার করা এবং একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত হয়েছে। তাঁর একাডেমিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও আলোচনায় আছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে আলোচনায় রয়েছেন ঢাবির বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং একাডেমিক প্রশাসনে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সম্ভাব্য তালিকায় আরও রয়েছেন ঢাবির কলা অনুষদের ডিন ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুই শিক্ষকও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকায় আলোচনায় এসেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি আসতে পারে।