একজন পরিদর্শকসহ বহিষ্কার ৭
প্রশ্নফাঁস ও গুজব রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারাদেশে ছয়জন পরীক্ষার্থী এবং একজন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিন সব বোর্ড মিলিয়ে অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৪০৮ জন। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যমতে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১১ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। অনুপস্থিত ১১ হাজার ৮৯০ জন। এদিন দুইজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে -একজন ঢাকা বোর্ডে এবং একজন দিনাজপুর বোর্ডে। অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিলের কুরআন মজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৩ জন পরীক্ষার্থীর। তবে অংশ নিয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯২ জন। এতে অনুপস্থিত ১১ হাজার ২১১ জন। মাদরাসা বোর্ডে সারা দেশে চারজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষায় ৬৫৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৩ জন। অনুপস্থিত ২ হাজার ৩০৭ জন। কারিগরি বোর্ডে কোনো শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়নি; তবে একজন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে গড় অনুপস্থিতি ১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি বরিশাল বোর্ডে—১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সবচেয়ে কম অনুপস্থিতি দিনাজপুর বোর্ডে। অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডে গড় অনুপস্থিতি ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর মিরপুর ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিকেলে তিনি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং গুজব রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘কোনো চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকের পরীক্ষায় পরিবেশ নিয়ে আমি শতভাগ সন্তুষ্ট। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষার মাঠ প্রশাসন এবং সামাজিক কমিউনিটি— সবাই এবার শতভাগ সহযোগিতা করছে। এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ কাউকে বিরক্ত করছে না, সবাই চায় শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিক। মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁসকারী বা গুজব রটনাকারীরা যে ধরনের আধুনিক যন্ত্র বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তা প্রতিহত করার মতো উন্নত কারিগরি সক্ষমতা ও টেকনিক্যাল হ্যান্ড আমাদের রয়েছে। সাইবার ক্রাইম স্পেশালিস্টদের সাথে আমরা নিয়মিত সমন্বয় করছি। তিনি আরো জানান, প্রশ্নপত্র পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মোবাইল নম্বর সাইবার ক্রাইম অথরিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যদি কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা সন্দেহজনক ঘটনা ঘটে, তবে আমাদের সাইবার টিম মুহূর্তের মধ্যেই ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সেই লোকেশন শনাক্ত করতে সক্ষম। আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। এ বছরই প্রথমবারের মতো প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রশ্নপত্র পরিবহনে ‘ডিজিটাল ট্র্যাকিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, আমি সশরীরে কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছি। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে ফুটেজগুলো ডিজিটাল ড্রাইভে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কারিকুলাম ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কারিকুলাম নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সরাসরি সুপারভিশন শুরু করেছি। সামনের দিনগুলোতে এটি ননস্টপ (ধারাবাহিক) চলবে। আমরা ক্লাসরুম লেভেলে গিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
আকস্মিক কেন্দ্র পরিদর্শনের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমি আগে থেকে জানিয়ে বা প্রোটোকল নিয়ে কেন্দ্রে যেতে চাই না। তাতে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। আমি সরাসরি ক্লাসরুম ও বাথরুমের পরিবেশ পর্যন্ত দেখছি, যাতে আমাদের আগামী দিনের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা সহজ হয়। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে কোনো পূর্বঘোষণা, আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি বা প্রটোকল ছাড়াই হঠাৎ করে এসএসসি পরীক্ষার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন । আকস্মিক এই সফরে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় কৌতূহল ও কিছুটা অপ্রস্তুত পরিস্থিতি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিনিটের দিকে উপজেলার জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এস এস সি) পরিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার কক্ষ ঘুরে দেখেন, পরীক্ষার্থীদের সাথে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নকল প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কোনো প্রটোকল ছিলো না এবং সরকারি গাড়ির পতাকাও ঢেকে রাখা ছিলো। ফলে পরিদর্শনের বিষয়টি আগে থেকে কেউ বুঝতে পারেনি। অভিভাবকদের একাংশ শিক্ষামন্ত্রীর হঠাৎ কেন্দ্র পরিদর্শনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এমন আকস্মিক পরিদর্শন হলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত হবে। পরিদর্শনের সময় জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা দিয়ে যান তিনি। এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নতুন ঘোষণা বা নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এ ধরনের পরিদর্শন ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে, যাতে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।