২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে কার্যক্রমে গতি ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষার্থীকল্যাণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে একের পর এক উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, দীর্ঘদিন পর ডাকসু কার্যক্রম সচল করা, একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরানোসহ মোট ৪১টি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।

গতকাল শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আজ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ভিসি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৪১টি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জন সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিং প্রদান করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, সকল অনুষদের ডিন, সকল হলের প্রভোস্ট এবং ডাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাবেদ আলম মৃধা বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, সারাদেশ জুড়ে অভ্যুত্থান পূর্ব গণজাগরণের মাধ্যমে নবযাত্রা শুরু করে আমাদের বাংলাদেশ। আর এই গণঅভ্যুত্থানের সূচনাকেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গণআন্দোলন-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে একে একে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টরসহ বেশিরভাগ হলের প্রভোস্ট এবং প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম রীতিমতো স্থবির হয়ে পড়ে। এরকম অস্থির ও অস্বাভাবিক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে ভঙ্গুর ও স্থবির বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকা পুনরায় সচল করা ছিল নতুন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সকল বিভাগ ও ইন্সটিটিউটে ক্লাস চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং আবাসিক হলগুলোকে সংস্কার করার যে চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে ছিল, সেসব তারা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করেছে।

এর পাশাপাশি নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর প্রশাসনিক সংস্কার ও পরিবর্তন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। জনসংযোগ অফিস থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে ইমেইল পাঠানো হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সহায়ক হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাসহ অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরিতেও সহায়ক ভুমিকা পালন করছে। এই হিসেবে আমরা আজ আপনাদের সামনে গত এক বছর পাঁচ মাসে আমাদের কর্মকা- ও প্রধান অর্জনসমূহ উপস্থাপন করছি, যাতে আপনারা একটি সামগ্রিক ধারণা লাভ করতে পারেন।

আমাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো-এই কার্যক্রম যেন ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে এবং কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়। সার্বিক কর্মকা-ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি। একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যেন ব্যক্তিনির্ভর না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারাবাহিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা সবাইকে এ বিষয়ে অবহিত করছি। একই সঙ্গে, যার যার অবস্থান থেকে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

ঢাবি’র বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে যা আছে: ২৮শ’ ৪১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় সম্বলিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের জন্য ২১ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, ১৫ তলা আইটি হাব ভবন নির্মাণ, ৯টি হল (ছাত্র-৪, ছাত্রী-৫), ৬টি একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ডাকসু ভবন, মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ উন্নয়নসহ জিমনেসিয়াম নির্মাণ, জলাধার সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধণ, রোড নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক টয়লেট নির্মাণ।