জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে রমাদান অলিম্পিয়াড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলার শিক্ষক লাউঞ্জে এ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদেরর (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহম্মদ নজরুল ইসলাম, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা ও গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় গত রমজান মাসে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত রমাদান অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জানা যায়, ছেলে ও মেয়েদের আলাদা গ্রুপে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় ছাত্র (পুরুষ) ও ছাত্রী (নারী)—উভয় বিভাগের মেধা মূল্যায়নের জন্য পৃথকভাবে সমান উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই বিভাগে সর্বমোট ৪০শিক্ষার্থীকে ২লক্ষ টাকা সমমূল্যের পুরস্কারের প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে নগদ টাকা, বই, ক্যালিগ্রাফি ও কেফিয়া দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমরা শিক্ষাঙ্গনকে আল্লাহর কুরআনের রঙে রঙিন করতে চাই এবং এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পথ চলা। তবে আজকের এই অনুষ্ঠানে আপনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েই আমি সরাসরি ছাত্রশিবির করার দাওয়াত দিতে পারি না। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে যে উদ্দেশ্যে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন—আমার মনে হয় সেই মূল জায়গায় আমরা সবাই এক। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল জনশক্তির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আসলে অভিন্ন।"

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা) হিকমা শিক্ষা দিয়েছেন। কুরআন আমাদের জ্ঞান ও হিকমা শিক্ষা দেয়। মুসলমানরা যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা শুরু করল তখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ চূড়ায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের জীবন এগিয়ে নিতে ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তুলতে কুরানের কাছাকাছি আসতে হবে। শাখা ছাত্রশিবিরের এ আয়োজনের মত আরও আয়োজন করা প্রয়োজন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন,   ছাত্রশিবির কল্যানমূলক কাজ করে- এটি প্রশংসনীয়। আমি মনে করি জুলাই পরবর্তী ছাত্র রাজনীতি এমনই হওয়া উচিত। সবাইকে এমন রাজনীতি করা উচিত। বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন যে ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছিল তাতে, তাদের হাত থেকে ক্যাম্পাসকে মুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। আমরা চাই এখনকার মত সহাবস্থান আগামী দিনেও অক্ষুণ্ণ থাকুক। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ছাত্রশিবিরের এমন আয়োজনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে রাজনীতি এমনই হওয়া উচিত।