জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে শিবির সমর্থিত 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট' প্যানেল থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে লড়ছেন আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা। শিবির প্যানেলে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ, জাকসু নির্বাচনের পরিবেশ, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তার পরিকল্পনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সামগ্রিক ভাবনাসহ নানা বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের জাবি প্রতিনিধি শহিদুল্লাহ মনসুরের সঙ্গে কথা বলেছেন জাকসুর এই এজিএস প্রার্থী।

এত প্যানেল থাকতে শিবিরের প্যানেলে কেন গেলেন? আপনার রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে কিছু বলুন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে তিন বছর সাংবাদিকতা করেছি এবং এরপর এক বছর এক্টিভিজম করেছি। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত না থাকায় একাধিক সংগঠন আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। আমার মনে হয়েছে শিবির সমর্থিত প্যানেলে গেলে আমি ভালো কিছু করতে পারবো৷ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে পারবো। তাই শিবিরের প্যানেলে আসা।

আপনার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কী কী আছে (ক্লাব, সমিতি, রাজনৈতিক সংগঠন ইত্যাদিতে)?

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে দীর্ঘ একটা সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবে সাথে সাংবাদিকতা করি। সর্বশেষ সাবেক সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চে সদস্য ও যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি।

জাহাঙ্গীরনগরে নারী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী বলে মনে করেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী হওয়ার পরেও আমরা দেখতে পাচ্ছি নারীদের মধ্যে নেতৃত্ব দেয়ায় অনীহা দেখা যাচ্ছে। এর মূল কারণ সাইবার বুলিং। আমি নিজেও বারবার সাইবার বুলিং-এর শিকার হয়েছি। আমি জানি বিষয়টা কতটা প্রভাব ফেলে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী নামে একটা সেল আছে। আমরা এমন একটি সেল তৈরি করার চেষ্টা করবো যেখানে কেউ সাইবার বুলিং এর শিকার হলে অভিযোগ দিয়ে বিচার নিশ্চিত করতে পারবে।

নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার প্রথম কার্যক্রম কী হবে?

নির্বাচিত হলে আমি নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করবো। আমরা দেখতে পাচ্ছি বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রী হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে, বহিরাগত প্রবেশ করছে। ক্যাম্পাসের ভেতর হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এই সব ক্ষেত্রে যা করলে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবো, ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচনী ইশতেহারে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতি কী?

আমার নির্বাচনী ইশতেহারে আমি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি 'ডে কেয়ার সেন্টার' চালু করতে চাই৷ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রী আছেন, যারা মা। পড়াশোনা এবং মাতৃত্বের মধ্যে যেকোনো একটিকে যেন বেছে নিতে না হয় তাই আমি একটি 'ডে কেয়ার সেন্টার' চালু করার ব্যাপারে ভাবছি৷

ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আপনি কীভাবে কাজ করবেন?

আমি তো কেবল একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হতে আসিনি। আমি সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে ওঠতে চাই। জাকসুতে বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থী মিলে একটি সংগঠন হয়ে ফাংশন করবে। সবার প্রচেষ্টা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে।