কারিগরি শিক্ষাঙ্গণের জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘ফিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পর্ব গতকাল শুক্রবার সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট অঞ্চলের ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে, যার মধ্য থেকে সেরা ৩টি উদ্ভাবন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়। নির্বাচিত প্রকল্পগুলো হলো- স্মার্ট হোম ইকো সিস্টেম (সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট), ফেস ডিটেক্টর (মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট) এবং মোক এন্ড ফিউম কনট্রোলিং ওয়েল্ডিং হেলমেট (হবিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ)।

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীণ Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্প অনুমোদন করে।

দিনব্যাপী আয়োজিত ডিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ দাউদ মিয়া এনডিসি, সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খান মোঃ বেজা-উন-নবী, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট। স্বাগত বক্তব্য দেন সামসুর রহমান খান, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), ASSET প্রকল্প। অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন, অধ্যক্ষ, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ASSET প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, সারা পৃথিবীতে দক্ষ কর্মীর প্রচুর চাহিদা আছে। আমাদের তত কর্মী নেই। বিশ্ব শ্রম বাজারে আমরা কর্মীর যোগান দিতে পারছি না। যে সকল কর্মী আমাদের আছে, তাদের দক্ষতা নেই। তিনি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আরো বলেন, সাধারণ শিক্ষা নিয়ে আজ আর তেমন লাভ হচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে। আমাদেরকে দক্ষ হতে হবে।

স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, আমাদেরকে নতুন নতুন উদ্ভাবনে পারদর্শী হতে হবে। নিজ নিজ অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সমস্যা নিজেরাই সমাধান করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ জন্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সে লক্ষ্য পূরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, কারিগরি শিক্ষা এখন আর কোনো বিকল্প ধারা নয়। এ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রাসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। ‘একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদেরকে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানান।