দীর্ঘ ৩৬ বছর পর অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এ বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। এ তালিকায় আপত্তি জানানো যাবে ২, ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১১ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর এবং জমা দেওয়া যাবে ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হবে ২১ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা। আপত্তি নিষ্পত্তির পর ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা। আর ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এতদিনে মাত্র ছয়বার চাকসু নির্বাচন হয়েছে। এর আগের তিনটি নির্বাচনে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা।”
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একমাত্র চাওয়া ছিল চাকসু নির্বাচন। এ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। প্রথম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এতদিনে মাত্র ছয়বার এ নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। ছাত্র সংগঠনগুলোর সংঘাত ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে দীর্ঘ ৩৬ বছর নির্বাচন বন্ধ ছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বিকাশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনও এই সময় ক্যানটিন, কমিউনিটি সেন্টার ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি কর্মচারীদের বিয়ের অনুষ্ঠানও হয়েছে সেখানে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দেখা দেয়। গত ১ জুলাই তারা চাকসু ভবনের নামফলকের ওপর ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার টানায়, যেখানে লেখা ছিল— “জোবর ভাতের হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টার।”