চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ধর্ম সব সময় কল্যাণের কথা বলে, সেটা যে ধর্মই হোক। ধার্মিক মানুষ কখনো অন্যের ক্ষতি করতে পারে না। ধর্মের সাথে আমাদের সম্পর্ক যত বাড়বে ততই অপকর্ম কমে যাবে। শিক্ষার্থীরা ধার্মিক হলে চবি ক্যাম্পাস আরও সুন্দর হয়ে যাবে। ক্যাম্পাসে কোনো বিশৃঙ্খলা থাকবে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে গত শুক্রবার বাদ মাগরিব পবিত্র ‘মি’রাজুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চবি ভিসি।
চবি ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, মুসলমানদের ইবাদতের মধ্যে একটা স্বাদ আছে, সেই স্বাদ না পাইলে ইবাদত করে মজা পাবেন না। অনেকে ধর্ম পালন করে কিন্তু দুর্নীতি করে, এমন ধর্ম পালন কোনো কাজে আসবে না। ভিসি বলেন, মি’রাজের ঘটনা নিয়ে আগে অমুসলিমরা সন্দেহ প্রকাশ করতো, কিন্তু বিজ্ঞানীদের গবেষণার কারণে এখন অমুসলিমরা সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। ভিসি বলেন, চবি ক্যাম্পাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন চবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস। পবিত্র মি’রাজের তাৎপর্য নিয়ে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন তালুকদার এবং চবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন। আলোচনায় প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন তালুকদার কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, মি’রাজে রাসূল (সা.) যে বাহনে ছড়েছিলেন সেটির নাম হলো বোরাক। এ বাহন নিয়ে বিজ্ঞানীরা বহু গবেষণার পর আশ্চর্য হয়ে গেছেন। যেটা বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন সম্ভব, সেটা দেড় হাজার বছর আগে রাসূল (সা.) এর সাথে ঘটেছিল। তিনি বলেন, কুরআন বলছে মানুষের তকদীর বা ভাগ্য নির্ধারিত, মেডিকেল সায়েন্স এখন বলছে মানুষের সাথে কখন কি ঘটবে সেটা জানা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানের গবেষণা যত বাড়বে, ততই কুরআন তথা সত্য প্রমাণিত হবে অমুসলিমদের কাছে। সবাই মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসলাম সত্য, কুরআন সত্য।
এতে আরও আলোচনা পেশ করেন চবি শাহজালাল হলের সিনিয়র পেশ ইমাম (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আজম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চবি উত্তর ক্যাম্পাস জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ নাঈমুল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চবি বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।