ববি সংবাদদাতা: সাংগঠনিক আলোচনার কথোপকথন গোপনে অডিও রেকর্ড করার অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহাদী হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসাইন শান্তের নির্দেশে তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, মাহাদী হাসানের বিরুদ্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইত্তেসাফ আর রাফি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান।

এদিকে কারণ দর্শানোর দুটি নোটিশ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। প্রথম নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একতরফা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী নোটিশে ওই অংশটি বাদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত বলেন, “ভাষাগত সংশোধনের কারণে পরবর্তী নোটিশে ওই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই।”

ছাত্রদলের একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, অভ্যন্তরীণ কথোপকথন ও সাংগঠনিক বিষয় বাইরে ফাঁস করে আসছিলেন মাহাদী। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কথোপকথন বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাহাদী হাসান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মো. শিহাব ও বর্তমান সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেনের অনুসারী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে সংগঠনের একটি অংশের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিব বলেন, “সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেউ এমন গুরুতর অভিযোগের পরও যদি পার পেয়ে যান, তাহলে ভবিষ্যতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ধরে রাখা কঠিন হবে।”

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টি-কর্নারে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ দুই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাদী তাঁর মোবাইল ফোনে অডিও রেকর্ড চালু করেন এবং সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি সাধারণ সম্পাদকের নজরে আসার পরও আলোচনা চলতে থাকে। প্রায় ১২ মিনিট পর মাহাদীর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কথোপকথন রেকর্ড করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মো. মাহাদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি একটু ব্যস্ত আছি পরে কল করছি।"

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, “এ ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আস্থা ও গোপনীয়তার প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করার মতো সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই।”

নোটিশটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) পিয়াস আহমেদ রিফাতের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।