পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বেদখলকৃত সকল হল পুনরুদ্ধারে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে জবি শাখা ছাত্রদল। প্রয়োজনে এই আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতারা রক্ত দিতেও প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এই ঘোষণা দেন। এসময় তিনি হল উদ্ধারের দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হল উদ্ধারের আইনি নথিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনকে একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "প্রশাসন যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপডেট জানাতে ব্যর্থ হয়, তবে ছাত্রদল সকল স্টেকহোল্ডার ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে প্রয়োজনে আমরাই রাজপথে প্রথম রক্ত দেব।"

তিনি আরও জানান, আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপাচার্য, ডিসি এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একটি চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই হল পুনরুদ্ধারের পূর্ণাঙ্গ টাইমলাইন ও রূপরেখা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।

বিগত ১৬-১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার জবির উন্নয়নে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন হিমেল। তিনি বলেন, "যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত, তাই বিগত সরকার এখানে উন্নয়নের বদলে নীল নকশা করেছে।" তিনি আরও দাবি করেন, বিগত আমলের এক উপাচার্য লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে বেদখলকৃত জমি লিজ দিলে প্রশাসনের আপত্তি নেই, যা অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

আব্দুর রহমান ও নজরুল ইসলাম হল স্বশরীরে পরিদর্শন শেষে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ জানান, তিব্বত হল, আহসান মঞ্জিল, গুলশানারা সিটিসহ সকল বেদখলকৃত হল উদ্ধারে তারা মাঠে নামবেন। তবে এই আন্দোলনে ছাত্রদলের কোনো একক ক্রেডিট নেওয়া বা সিট বাণিজ্যের উদ্দেশ্য নেই বলে স্পষ্ট করেন হিমেল। তিনি বলেন, এটি কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

সংবাদ সম্মেলনে জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনকে এই আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।