রেজাউল করিম রাসেল, কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, এটি কুমিল্লা জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক গৌরবময় অধ্যায়, যেখানে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। ১৮৩৭ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তখনকার ত্রিপুরা জেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল এবং সময়ের পরিক্রমায় কুমিল্লা জিলা স্কুলে রূপ নিয়ে আজও তার ঐতিহ্য অটুট রেখেছে। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে এই স্কুল যেন নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেছে সাক্ষীর ভূমিকায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে সবশেষ ২৪ শে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এখানকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ স্কুলটিকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নাম এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় স্কুল প্রাঙ্গণে, যা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কুমিল্লা জিলা স্কুল বরাবরই আপসহীন বলে জানান বর্তমান ও সাবেক শিক্ষকরা।

মোঃ আবদুল হালিম নামে স্কুলের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, এই স্কুলে শিক্ষকতা করা মানে শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়, এখানে আমরা শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব অনুভব করি। সততা, শৃঙ্খলা আর দেশপ্রেম এই তিনটি বিষয় সবসময় আমাদের পাঠদানের মূল জায়গায় থাকে।

শ্যামল চন্দ্র দাস নামে স্কুলের আরেক শিক্ষক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ক্লাসরুমে ঢুকলে আজও মনে হয় শত বছরের ইতিহাস আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। এই অনুভূতিই আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তোলে। আমরা সবসময়ই দায়িত্ব কাঁদে নিয়েই শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিয়ে থাকি সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে।

এদিকে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও স্কুলটির সুনাম রয়েছে। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিজ্ঞান মেলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এখানকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। স্কুলের বিশাল খেলার মাঠ, পুরনো লাল ইটের ভবন ও আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যেন অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা জিলা স্কুলকে নিজেদের জীবনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।