ইবি সংবাদদাতা : দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে শুভেচ্ছা মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা। তবে মিছিলটিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বহিরাগত ও স্কুলশিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচ থেকে শুভেচ্ছা মিছিলটি শুরু হয়ে ‘ভিত্তিপ্রস্তর’ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, উমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সদ্য বিদায়ী আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক নূর উদ্দিনসহ চার শতাধিক নেতাকর্মী। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলে অংশ নেওয়া এই নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশই ছিল বহিরাগত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিছিলে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, শৈলকূপা, মধুপুর ও শেরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদল, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন; কেউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, আবার কেউ স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নতুন কমিটিকে শুভেচ্ছা জানাতেই বড় ভাইদের ডাকে তারা ক্যাম্পাসে এসেছেন।
শেরপুর থেকে আসা কয়েকজন জানান, “আমরা রতন ভাইয়ের ছোট ভাই। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর আহ্বানেই আমরা শেরপুর থেকে এসেছি।” আবার মধুপুর থেকে আসা কয়েকজন বলেন, “আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নই। মধুপুর হোদিরননেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। বড় ভাইদের ডাকে শুভেচ্ছা মিছিলে অংশ নিতে এসেছি।”
এদিকে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগতদের এমন অবাধ অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেক শিক্ষার্থীকে “বহিরাগতদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিষেধ” লিখে উপহাস ও কটাক্ষ করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের কথা বলে আসছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠনের কর্মসূচিতেই যদি এভাবে বহিরাগতদের ঢল নামে, তবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। তারা প্রশাসনের কাছে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ইবি ছাত্রদলের সাবেক নেতারাসহ অনেকেই আছেন। নতুন কমিটিকে শুভেচ্ছা জানাতে আবেগের জায়গা থেকে তাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের তো নিষেধ করা যায় না। আর নতুন কমিটির মিছিলে এমন উপস্থিতি থাকাটাই স্বাভাবিক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, “মিছিল করার জন্য তারা আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিল। তবে বহিরাগতদের উপস্থিতির ব্যাপারে আমার জানা নেই। যদি বহিরাগত থেকে থাকে, তবে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান সব সময়ই ‘জিরো টলারেন্স’।”