নির্বাচন ডেস্ক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে উঠেছিল। দেশের কোটি মানুষের মনে জন্ম হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহস ও অদম্য চেতনা সেই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ ছোটো-বড় বিভিন্ন দল ইতোমধ্যেই ইশতেহার বা ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এসব ইশতেহারে কতটুকু গুরুত্ব পাচ্ছে জুলাই বিপ্লবের চেতনা, কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষা, এবং ভোটারদের জন্য সামনের দিনের প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য।

আমরা সবাই জানি জুলাই বিপ্লবের মূল স্পিরিট ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা দেখতে পাচ্ছি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এই ইশতেহারগুলোতে প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে জুলাই বিপ্লবকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন দল তাদের ইশতেহারে ৩১ দফা এবং ছাত্রদের জুলাই জাতীয় সনদ এর মধ্যে সমন্বয়ের কথা বলছে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং জুলাইয়ের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, বিপ্লবে আহতদের পুনর্বাসন এবং ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করার মতো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই সব ইস্তেহার বাস্তবায়নের রোড ম্যাপ কি? এগুলো নিয়ে এখনো ধোয়াসা রয়েছে। সাধারণ মানুষের আশা হচ্ছে কাঠামোগত সংস্কার, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে সংস্কারের চেয়ে ক্ষমতার রদবদলের প্রভাব বেশি স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের যেই দাবি তা বাস্তবায়নের মতো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের অভাব এখনো চোখে পড়ার মতো। তবুও আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো যেই ইশতেহার দিয়েছে তা শুধু কাগজের প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকবে না, সেগুলো বাস্তবায়িতও হবে। সাধারণ জনগণ যেই সিস্টেম চেইঞ্জ চায়, দলগুলো যেন সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে—এটাই প্রত্যাশা।