কৃষি গুচ্ছভুক্ত ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী কোটাসহ মোট ৩ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ৭ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল অনুযায়ী মেধা তালিকায় সর্বোচ্চ ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৩ দশমিক ৭৫ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। বুধবার গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যবৃন্দ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও ইউজিসির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অষ্টম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কৃষি গুচ্ছের নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করেন।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা কৃষি গুচ্ছের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিজ নিজ ফলাফল জানতে পারবেন। ফলাফল সংক্রান্ত সব নির্দেশনা ওয়েবসাইটে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার মোট ৩ হাজার ৭০১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮৮ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৩২৪ জন, যা উপস্থিতির হার ৯১ দশমিক ০৪ শতাংশ- যা কৃষি গুচ্ছের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ফলাফল প্রকাশ শেষে ভিসি প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ৯টি পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত প্রয়াসে একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই দায়িত্ব সফলভাবে পালনের সুযোগ পেয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, কৃষি গুচ্ছভুক্ত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের আসনসংখ্যা হলো-বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০৬টি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৫১০টি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৭০৫টি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৫২টি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ২৭৫টি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৩১টি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৫০টি, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৯০টি এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৮২টি।