রোজা, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের টানা ছুটি শেষে আজ রোববার (২৯ মার্চ) থেকে দেশের প্রায় সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার শুরু হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দীর্ঘ ৩৭ দিনের ছুটি শেষ হলেও শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় আজ থেকেই নিয়মিত ক্লাস চালু হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন, রোজা ও ঈদের কারণে বছরের প্রথম তিন মাসে শ্রেণি কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে ছুটির পর থেকে পুরোদমে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এ বছর রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ৮ মার্চ থেকে। তবে অভিভাবকদের করা রিটের পর হাইকোর্টের আদেশ এবং পরবর্তী সময়ে নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের ১৭ দিন আগেই ছুটি শুরু হয়। 

পরে সংশোধিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি রাখা হয়।

এদিকে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কমাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির পর প্রথম ১০টি শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শনিবারের ছুটি বাতিলের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘ ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। গত ২৫ মার্চ সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিদিন নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।

এছাড়া প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাগান পরিচর্যা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্বুদ্ধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।