বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘স্বাভাবিক উপায়ে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়’ বুঝে তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নানা চক্রান্ত করা হয়েছে-এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, “বেগম জিয়া হেঁটে কারাগারে গিয়েছিলেন, আর ফিরেছেন হুইল চেয়ারে বসে। দিনের পর দিন তাঁকে কারাগারে মানবেতর অবস্থায় কাটাতে হয়েছে।”
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মীরেরখীল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মীরবাড়িতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের মানবিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের উদ্যোগে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনা মনে করতেন দেশ তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক পথের বাধা-এ ধারণা থেকেই তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার যত ধরনের অপচেষ্টা সম্ভব, সবই করেছেন তিনি। ন্যায়নীতি, আইনকানুন কোনোকিছুর তোয়াক্কা তিনি করেননি।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের স্বার্থে ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে। সোনা কিনে মজুত করা, ব্যাংক লুটে টাকা পাচার-এসব অপকর্মের মাধ্যমেই দেশ পরিচালিত হয়েছে। সব ছেড়ে পালিয়ে গেছেন তিনি, তবে জমানো সোনা নিতে পারেননি।”
তিনি আরও বলেন, “হাসিনা তো কোনো জমিদারের মেয়ে নন যে তাঁর কাছে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার থাকবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক লুট করে সোনা কিনেছেন, পূর্বাচলে প্লট নিয়েছেন-এসবই এখন প্রকাশ পাচ্ছে।”
এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর প্রতি দোয়ার আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।