ইবি সংবাদদাতা
আসন্ন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তিকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফেরার পথে এক ধাপ এগিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ্ এন্ড ল’ বিভাগ। গত রবিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে মাদরাসা বিভাগ হতে ৪০ জন এবং কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ড হতে ৪০ জন ভর্তির শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী প্রশাসনের লক্ষ্যচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া বিভাগটির লক্ষ্যে ফেরার যাত্রা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, ইসলামী ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে ‘আল-ফিকহ্’ নামে যাত্রা শুরু করে বিভাগটি। ইসলামী শরিয়ত তথা ফিকহের সাথে প্রচলিত আইনের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভাগে শতভাগ আরবীতে পারদর্শী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হতো। শুরু থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় আল-ফিকহ সম্পর্কে আলাদা ২০ নম্বরের পরীক্ষার শর্তসহ মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হতো। তবে ২০১৮ সালে আওয়ামী প্রশাসন বিভাগের স্বকিয়তা নষ্ট করতে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের শর্ত বাদ দেয়। পরে তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী আমলে এই ধারা পরিবর্তন করে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ টি এবং অন্যান্যদের জন্য ৪০ টি আসন নির্ধারণ করে দেয়। এক শিক্ষাবর্ষে এ ধারা থাকলেও পরে এ নিয়মও ভঙ্গ করে মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই বিভাগটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম মিলে প্রায় ২৫০০ নাম্বারের আরবীতে ফিকহের বিষয়ে পড়ানো হয়। কিন্তু বর্তমানে আরবীতে অদক্ষ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এসব বিষয়ে পাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে তাদের জন্য বাধ্য হয়ে বাংলা ভার্সনে লেখার সুযোগ দেন শিক্ষকরা। ফলে প্রচলিত আইনে পারদর্শী হলেও ফিকহের বিষয়ে পারদর্শী হতে পারছেন না তারা। তবে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা থেকে পূর্বের নিয়মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগটি। এতে মোট ৮০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ও ৪০ জন কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভাগের শিক্ষকরা জানান, “বর্তমান নিয়মে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় আরবি কোর্সগুলো শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে বুঝে না। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ফলাফল খারাপ করে রিটেক পরীক্ষা দেয়। এতে বিভাগে সেশনজট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই ধারা থেকে বের হয়ে পূর্বের ধারায় ফিরে যেতে চায় বিভাগটি। যাতে করে আরবী জানা শিক্ষার্থীরা এই বিভাগে ভর্তি হতে পারে।” জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ভর্তি হওয়া বিভাগটির ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী মিশুক শাহরিয়ার বলেন, “এটি একটি বিশেষায়িত বিভাগ। সব ছাত্রদের এই বিভাগকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেওয়াটা ঠিক না। আমাকে যদি এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না দিত, তাহলে আমি হতাশা থেকে বেঁচে থাকতাম এবং জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় গুলো নষ্ট হতো না। প্রতি সেমিস্টারে তিনটা করে ফিকহের কোর্স থাকে, যেগুলো ভালো আরবি না জানলে ও পড়তে না পারলে বুঝা প্রায় অসম্ভব।” বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন বলেন, “বিভাগের নাম যখন আল ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ করা হয় তখন একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০% মাদরাসা এবং ৫০% জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তৎকালীন প্রশাসনের আমলে বিভিন্ন কারণে এটা পরবর্তীতে প্রয়োগ করা যায়নি। ফলে বিভাগের অনিচ্ছা সত্ত্বেও গুচ্ছের নিয়ম অনুযায়ী জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। এছাড়া বিভাগের পূর্বের ধারা অনুযায়ী আমরা সম্পূর্ণ মাদরাসারই নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যায়নি। তাই এবার এই শর্তেই শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি করানো হবে।” বিভাগটির সিনিয়র অধ্যাপক ড. আবুবকর মো. জাকারিয়া মজুমদার বলেন, “বিজ্ঞানে পড়তে হলে যেমন বিজ্ঞানের শর্ত লাগে, তেমনি ফিকহ পড়তে হলে ফিকহের শর্ত লাগবে। ফিকহের কিছু বিশেষ শব্দ (টার্ম) আছে যা আরবি না জানা একজন শিক্ষার্থী হুট করে এসে বুঝবে না। এরূপ শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ায় বিভাগের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।