ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সহায়ক কর্মচারী পরিষদের নির্বাচনে বিএনপিপন্থীদের একাংশের কাঁধে ভর করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হচ্ছেন জুলাই আন্দোলনের বিরোধী ভূমিকায় থাকা অঞ্জন উর রহমান। তিনি আইসিটি সেলের সহায়ক কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। তার পেছনে বিএনপিপন্থী কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের একটি অংশের মৌন সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল মুহূর্তে ৩ আগস্ট তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে সভাপতি করে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়ার অফিস কক্ষে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, সহকারী প্রক্টর আমজাদ হোসেন, মিঠুন বৈরাগী, ইয়ামিন মাসুম, ছাত্র উপদেষ্টা ড. বাকি বিল্লাহ বিকুল, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিয়া রাশিদুজ্জামান, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনসহ ২০/২৫ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এই মিটিংয়ে সহায়ক কর্মচারী আইসিটি সেলের ইলিয়াস জোদ্দার, অঞ্জন-উর-রহমান, ইব্রাহীম হোসেন সোনাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এদিন মিটিং শেষে যেকোনো মূল্যে ছাত্র জনতার আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।মিটিংয়ে উপস্থিত বিশ্বস্ত সূত্র তার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে গত ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় আসন্ন ২০২৫-২৬ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে মোট ১৩ টি পদের বিপরীতে মনোনয়ন উত্তোলনের জন্য জানানো হয়। পরে গত ১৭ তারিখ মনোনয়ন বাছাই এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রচার করা হয়। এতে প্রতিটি পদে একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হচ্ছেন অঞ্জন-উর-রহমান। তবে তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের বিরোধীতার অভিযোগ উঠায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়া তার পেছনে বিএনপিপন্থী কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের একটি অংশের মৌন সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক কর্মচারী বলেন, সে জুলাইয়ের চরম বিরোধিতাকারী। তাকে আমরা সেসময় বিভিন্ন মিটিংয়ে দেখেছি এবং জুলাই নস্যাতে তার সহযোগিতা ছিলো। সে সভাপতি হলে জুলাই কলঙ্কিত হবে। এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ের রাতের ভোটের মতোই হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী সবাই
এ বিষয়ে জানতে অঞ্জন উর রহমানকে একাধিক মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।
উল্লেখ্য, জুলাই বিরোধিতা ইস্যুতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন স্থগিত হয়ে আছে।