কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটের আগের দিনে স্থগিত হলো বহুল প্রত্যাশিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন। নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ।

এরআগে রোববার এ রিট করেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজন। তবে তারা সকলেই ছাত্রদলে ডামি প্রার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শুরু করেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ অনেক শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ঐ রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিলেট ইসলামী ছাত্রশিবির

জানা গেছে, দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ভোটের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যে নির্বাচন স্থগিতের খবর পেল শিক্ষার্থীরা। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, রাশনা ইমাম, মনিরুজ্জামান আসাদসহ কয়েকজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। শুরুতে ভোটগ্রহণের জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হলেও পরে তা ২০ জানুয়ারি করা হয়।

এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘প্রভাবমুক্ত রাখতে’ গত ১২ জানুয়ারি ইসি এক আদেশে পেশাজীবীসহ সবধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়।

তবে ভোটের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীদের বড় অংশ। এর মধ্যে ১৫ জানুয়ারি আচরণবিধি মেনে চলার শর্তে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

এ সিদ্ধান্তসহ বেশ কিছু ঘটনায় ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের সামনে রোববার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। এদিকে সোমবার দুপুরে শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপিপন্থি ৮ শিক্ষক। অপরদিকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। এরই মধ্যে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে উচ্চ আদালত থেকে। এতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ২২ জানুয়ারী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট সফর উপলক্ষে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিএনপি পন্থী শিক্ষক ও ছাত্রদল নেতারা। কিন্তু ভিসিসহ বিশ^বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই যথা সময়ে নির্বাচনের পক্ষে থাকায় নির্বাচন কেন্দ্রীয় জটিলতা কিছু দুর হয়। তবে শেষ পর্যায়ে উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিতই হলো নির্বাচন।

ভিপি ও এজিএস পদে লড়ছিলেন ৪ জন করে, জিএসে ৭ প্রার্থী

নানা প্রতিবন্ধকতা, বারবার তারিখ পিছিয়ে যাওয়া আর নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার পর সর্বশেষ সোমবার স্থগিত হওয়া নির্বাচনে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে ৯৭ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৭ জন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপর দিকে হল সংসদে পদ রয়েছে ৯টি।

শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি প্যানেল গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে শিবির সমর্থিত ২৩ সদস্যের ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ২২ সদস্যের ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ ও সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ১৭ জনের সমন্বয়ে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ নামে প্যানেল গঠিত হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন অনেকে।

ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’প্যানেলের মোস্তাকিম বিল্লাহ। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের দেলোয়ার হাসান শিশির, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের মুহয়ী শারদ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুমিনুর রশীদ শুভ।

জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের মারুফ বিল্লাহ, পুর কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবির সমর্থিত প্যানেলের মুজাহিদুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞানের ফয়সাল হোসেন, সমাজকর্মের জুনায়েদ আহমেদ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের পলাশ বখতিয়ার ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের জুনায়েদ হাসান।

এজিএস পদে আছেন জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জহিরুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবির সমর্থিত প্যানেলের শাকিল মাহমুদ, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আতাহারুল ইসলাম রাহিন এবং একই বিভাগের হাফিজুর ইসলাম।

এছাড়া ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৪, সাহিত্য ও বার্ষিকী সম্পাদক পদে ২, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৩, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ২, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক পদে ৩, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ৩, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে (শুধুমাত্র ছাত্রীদের জন্য) ৪, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে ৪, শিক্ষা-গবেষণা-ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে ৫, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৪, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪, কাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক ৪, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ৫ ও সদস্যপদে ২৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।

হল সংসদে ভিপি, জিএস, এজিএস, ক্রীড়া সম্পাদক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক ও সদস্যের তিন পদসহ মোট ৯টি পদের বিপরীতে ছেলেদের ৩টি হলে মোট প্রার্থী ৫৩ জন।

শাহপরানে হলে ১৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি ৪, জিএস ২, এজিএস ৩, ক্রীড়া সম্পাদক ১, সাহিত্য সম্পাদক ১, সমাজসেবা সম্পাদক ২ ও সদস্য ৬ জন । বিজয়-২৪ হলে ১৮ জন প্রার্থী। এতে ভিপি ২, জিএস ২, এজিএস ২, ক্রীড়া সম্পাদক ২, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ২, সমাজসেবা ৩, সদস্য ৫ জন। সৈয়দ মুজতবা আলী হলে ভিপি ২, জিএস ৩, এজিএস ৩, ক্রীড়া সম্পাদক ২, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ২, সমাজসেবা সম্পাদক ১, সদস্য ৫ জনসহ মোট ১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। তিনটি ছাত্র হল সংসদে ৩ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন।

ছাত্রীদের তিনটি হলের মধ্যে আয়েশা সিদ্দিকা হলে ৯টি পদে মোট ১০ জন প্রার্থী। সমাজসেবা পদে প্রার্থী ২ জন। ভিপিসহ বাকি পদগুলোতে একজন করে প্রার্থী। বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে ৯টি পদে প্রার্থী ১১ জন। এরমধ্যে ভিপি পদে ৩ জন প্রার্থী ছাড়া অন্যান্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফাতেমা-তুজ-জাহরা হলের প্রার্থী ১০ জন। এরমধ্যে ক্রীড়া সম্পাদককে কোনো প্রার্থী নেই এবং সদস্য পদে ২ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৩ জন ও জিএস পদে ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। বাকি পদগুলোতে একজন করে প্রার্থী রয়েছে। তিনটি ছাত্রী হল সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন ২১ প্রার্থী।

বিএনপিপন্থী আট শিক্ষকের পদত্যাগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপিপন্থি আটজন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টি জানান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন। এসময় অন্য শিক্ষকদেরও দায়িত্ব পালন না করার আহ্বান করেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা প্রশাসনের আচরণে বিব্রত বোধ করছি। ভাইসচ্যান্সেলরকেও জানিয়েছি এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন করবেন কি-না। নির্বাচন পরিচালনায় হয়তো দুইশ শিক্ষক লাগবে। এখান থেকে আমাদের মতের সঙ্গে একাত্মতা যারা পোষণ করে, তারা সরে আসবে।

এই শিক্ষক আরও বলেন, আমরা এখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকেরা এখানে আছি। শাবিপ্রবির নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে হয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি ৫ আগস্টের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হল দখল করা হলো। হলে ওঠার জন্য একটা নীতিমালা তৈরি করে আবার তারাই সেই নীতিমালা বাতিল করে দিয়েছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলো, নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন নির্বাচন বন্ধে শিক্ষকদের একটা অংশই ষড়যন্ত্র করছে আমাদের এই ট্যাগিং দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি নির্বাচন পরিচালনা করি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের দোষ দেওয়া হবে।

অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন গঠন হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। ভিসি মহোদয় এককভাবে তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। ভিসি মহোদয় ১৫ জনের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। বিএনপিপন্থি শিক্ষকেরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি দেই নাই। গত ৫ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি আসে। নির্বাচন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়। এই চিঠির বিষয়ে আমরা শিক্ষকেরা জানি না। আমরা আশা করছিলাম ভিসি মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক ড.ইফতেখার আহমেদ, অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার প্রমুখ।

এ ব্যাপারে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আটজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছে শুনেছি। এখনো কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্টস পায়নি। তবে আমাদের নির্বাচনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান আছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রশিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাসিনার আমলে পেশি শক্তির বলে দীর্ঘ কয়েক দশক ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হয়নি। এখনো একটা গোষ্ঠী নিজেরা দেউলিয়া হয়ে নানান অজুহাতে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরন করতে চাচ্ছে। আমরা এটি কোনভাবেই মেনে নেব না। শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় না আসা পর্যন্ত বাসায় ফিরবো না।

যথাসময়ে শাকসু নির্বাচনের দাবি ইউটিএলেরও

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সংগঠনটির নেতারা বলেছিলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মিলনায়তনে ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামীকাল ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইউটিএলের পক্ষ থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এ নির্বাচন আয়োজনের জন্য। আমরা প্রত্যাশা করছি, প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সোমবার নির্বাচন সম্পন্ন করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে, ইনশাআল্লাহ। কয়েকজন শিক্ষক নির্বাচনে অসহযোগিতার কথা বলেছেন, এমন তথ্য আমাদের জানা আছে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অধিকাংশ শিক্ষকই শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে রয়েছেন ‘

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো শিক্ষককে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করিনি। যারা অসহযোগিতার কথা বলেছেন, তাদের প্রতিও আমাদের আহ্বান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আপনারাও এগিয়ে আসুন। আমরা চাই, সব শিক্ষক মিলে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে।’

সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএল সাস্ট চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক ড. জামালুদ্দিন, অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামানসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থীরও দাবি ছিল নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ইসির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানালেও ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন দাবি করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ।

ফেসবুক পোস্টে মোস্তাকিম বিল্লাহ লেখেন, আপনারা জানেন আজকে ইসি ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে ইসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমাদের সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সব সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়। আমাদের এ প্যানেল ছাত্রদলের কোনো একক প্যানেল নয়, এখানে অর্ধেকের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছে। আমি এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী হিসেবে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমরা সবাই শাকসুর পক্ষে এবং শাকসু চাই। কেউ যদি শাকসুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বা নিতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হব।

নগরীতে সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট নগরীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির। সোমবার বিকেল ৩টায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সিলেট মহাগর সভাপতি শাহীন আহমদের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারী শরীফুল হক সাজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মিছিল পরবর্তী সমাবেশে শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়, সিলেট জেলা পূর্ব ও সিলেট জেলা পশ্চিম ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। মিছিলে সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।