ববি রিপোর্টার : Barisal University Central Student Union (BUCSU)-এর গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হলেও এর নামের সংক্ষিপ্ত বাংলা রূপ ‘বাকসু’ অন্তর্ভুক্ত না হওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি—একটি ছাত্র সংসদের নাম শুধু একটি পরিচয় নয়; এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে। সেখানে ইংরেজিতে BUCSU থাকলেও বাংলা ‘বাকসু’ অনুপস্থিত থাকাকে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, বরিশালের আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ তাদের ছাত্র সংসদের সংক্ষিপ্ত নাম ‘বাকসু’ হিসেবে ব্যবহার করে। এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। আর তা এড়িয়ে চলতেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-এর সংক্ষিপ্ত নাম বাংলাতে ‘বাকসু’ না দিয়ে শুধুমাত্র ইংরেজিতে ‘BCCSU’ রেখে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে প্রশাসন বলছে, এ নাম যে যার মতো করে উচ্চারণ করতে পারবে।
তবে, কাগজ-কলমে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ)-এর ‘বাকসু’ নামে কোনো সংগঠন নেই। তাদের ছাত্র সংসদের সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে এর নাম হবে ‘ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদ’। যদি তা সংক্ষিপ্ত করে তারা ডাকে, তবে সেটি হতে পারে BCCSU। তাদের দাবি অনুযায়ী তাদের ছাত্র সংসদের নাম ‘ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদ’ হলেও, সেটি তাদের সংবিধানে নেই। তাছাড়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি পরিপত্র অনুযায়ী কলেজের নামের সাথে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ যুক্ত করা যাবে না মর্মেও জানানো হয়েছে।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে ইংরেজি নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন; তবে বাংলা নাম বাদ পড়াকে সাংস্কৃতিক অবহেলা হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান; তাই শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিচয় ও আবেগ বিবেচনায় বাংলা নাম যুক্ত করা যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস.এম ওহেদুর রহমান বলেন, “Barishal University Central Students Union” যার ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ BUCSU। যার এক ও কেবলমাত্র একটিই বাংলা উচ্চারণ, যা হলো: “বাকসু”। কোনো ডিপ্লোম্যাটিক ভাষা নয়। কোনো দ্বিচারিতা নয়। কোনো আপস নয়। সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গের পলিটিক্যাল স্ট্যান্স হবে সহজ, সুস্পষ্ট ও সহজপাচ্য।”
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহম্মদ রিপন ম-ল বলেন, “সিন্ডিকেট সভায় গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হওয়া অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু গঠনতন্ত্রে ইংরেজিতে ইটঈঝট উল্লেখ থাকলেও বাংলায় ‘বাকসু’ না থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন তৈরি করছে। আমাদের দাবি খুব পরিষ্কার—যেহেতু ইংরেজি নাম রয়েছে, সেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলায় ‘বাকসু’ যুক্ত করতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, “আইনি জটিলতা এড়াতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে যা হচ্ছে তাতে আমার শিক্ষার্থীদের মঙ্গল হবে। আমরা চাচ্ছি যেকোনো ভাবেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে।”