বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল কর্তৃক ক্রমাগত নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২রা ফেব্রুয়ারি, সোমবার, দুপুর ১.৩০ টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না এবং শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাহমিদা আকবর বিএনপি ও ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে বলেন,
“আপনারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন—সংসদে ও রাজনীতির মাঠে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির কথা বলেন। অথচ একের পর এক নারীর ওপর হামলা, ধর্ষণ ও সহিংসতার মাধ্যমে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ সংকুচিত করে দিচ্ছেন। তাহলে অধিকার নিয়ে আপনাদের এসব বক্তব্য কি শুধুই নির্বাচনের আগে দেওয়া ফাঁকা আওয়াজ? ভয় দেখিয়ে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে নারীর অধিকার হরণ করা কাপুরুষতা ছাড়া কিছু নয়—এগুলোই ফ্যাসিবাদের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য।”
তিনি নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, রাজনৈতিক পরিবেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারী অবমাননাকর বক্তব্য ও আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর সংঘটিত সহিংস হামলার বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে মাত্র পাঁচ দিন আগে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি।
কিন্তু আজ আবারও রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্তৃক নারী সমাজের ওপর অব্যাহত হামলা, ধর্ষণ ও খুনের মতো লজ্জাজনক ও ঘৃণিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমরা সম্মিলিত হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল নারী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ জোরদার করা। অথচ বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড রাজনীতি ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীদের অবাধ অংশগ্রহণকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
এ সময় তিনি চার দফা দাবি জানান—
১. রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের সুস্পষ্ট অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।
২. সাম্প্রতিক ও পূর্ববর্তী সময়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারীদের ওপর সহিংস হামলার বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৩. জুলাইয়ের অঙ্গীকার অনুযায়ী নারীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ দেশ গঠনে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৪. দেশে সংঘটিত সকল নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং ভিক্টিমের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুকাইয়া আক্তার বলেন, যাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে তারা নারী হত্যা, নারী হামলা ও খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়ে নারীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের ঠিকানা বাংলাদেশে হবে না। ভবিষ্যতে যারা জালিম হয়ে ওঠার চেষ্টা করবে, তাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে।
নারী নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়—এটি নারীদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। তাই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নারীর নিরাপত্তা এবং রাজনীতিতে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।