গত কয়েক দিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের জানান দিতে সিনিয়র ও জুনিয়রদের সাথে দিচ্ছেন আলাদা আলাদা শোডাউন, বাস্তবায়ন করছেন ভিন্ন কর্মসূচি। কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা থাকতে পারে তা নিয়ে ক্রমেই আলোচনা জোরদার হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত ও ত্যাগীদের নিয়ে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয় জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির জাতীয় রাজনীতির উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এমতাবস্থায় ছাত্রদলকে নতুনভাবে সাজাতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ভাবছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। কোন সেশন থেকে নেতৃত্ব আসবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও আলোচনায় রয়েছে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৯-২০ সেশনের নেতাকর্মীরা।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ সেশন থেকে আসতে পারে নতুন নেতৃত্ব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও এর আশেপাশে থাকবে।
কয়েকটি ব্যাচ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নতুন কমিটির আলোচনায় ২০১৪-১৫ সেশন থেকে এগিয়ে আছেন বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হোসাইন আল রাশেদ বাদল ও মিজানুর রহমান এবং ২০১৫-১৬ সেশনের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাজু আহম্মেদ, মো. জোবায়ের হোসাইন, আলাউদ্দিন দেওয়ান, হাসান শাহরিয়ার রামিম।
এছাড়াও ২০১৬-১৭ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ অন্তর, মোহাম্মদ রাজন মিয়া, জাকিরুল ইসলাম, সাব্বির হোসাইন, এম আর মুরাদ, ফেরদৌস রহমান, মো. শরিফুল ইসলাম। ২০১৭-১৮ সেশন থেকে আছেন আহ্বায়ক সদস্য আব্দুল গাফফার জিসান, রূপক সালমান, জাহিদ হাসান এবং ২০১৮-১৯ সেশন থেকে আহ্বায়ক সদস্য মো. শেখ সাদী হাসান, রাসেল আকন্দ। ২০১৯-২০ সেশন থেকে আলোচনায় আহ্বায়ক সদস্য হামিদুল্লাহ সালমান, সাজ্জাদুল ইসলাম, সৌরভ মৃধা, মেহেদী হাসান ইমন ও মো. রুবেল।
তবে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছেন ২০১৬-১৭ সেশনের আব্দুল্লাহ অন্তর এবং ২০১৯-২০ সেশনের হামিদুল্লাহ সালমান। নতুন নেতৃত্বে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকবে বলে আশাবাদী একাধিক নেতাকর্মী।
শাখা ছাত্রদলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোন ব্যাচ থেকে কমিটি আসবে সেটা ঠিক হয়নি। আবাসিক হলে অবস্থানকারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের থেকে কমিটি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, কমিটি গঠন আমাদের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি খুব দ্রুতই ঘোষণা করা হবে, সম্ভাব্য সময় ডিসেম্বরের মধ্যেই। ইতোমধ্যে কমিটি গঠনের জন্য একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। তাদের তত্ত্বাবধানে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, 'নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া আমাদের সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।'