জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একাধিক স্কিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
২৯ ডিসেস্বর স্থগিত হওয়া জকসু নির্বাচনের দিন আগের রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক প্রার্থী সুজন চন্দ্র সুকুল। তার এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন প্রশ্ন তৈরি হয়।
ভাইরাল হওয়া স্কিনশটগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেগুলো সুজন চন্দ্র সুকুলের দর্শন বিভাগের একটি নোটিশ গ্রুপে হওয়া আলাপচারিতার অংশ। প্রার্থীতা প্রত্যাহার নিয়ে ব্যাচের সহপাঠীরা প্রশ্ন করলে তিনি সেখানে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
একটি স্কিনশটে সুজন চন্দ্র সুকুল অভিযোগ করে লেখেন, তাকে ‘বিশ্বজিৎের মতো মেরে ফেলার’ হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখেন, “আমার পরিবার পর্যন্ত ওরা আসছে। এমনও বলা হইছে বাঁচতে চাইলে যেন বসে যাই। আমার অবস্থা বিশ্বজিৎ-এর মতো হবে। কাল অনেক কিছু হইছে। পরিবার আর নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিছি। তবে এক টাকাও নেইনি রে। তোরা পারলে আমাকে ক্ষমা করিস।”
আরেকটি স্কিনশটে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির তার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিষয়ে পরিবারের কাছে ফোন করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমার সনাতনী সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিছি। তবে রিকোয়েস্ট ছিলো যেন অন্তত আমাকে সাপোর্ট দেয়। কিন্তু মানে নি। এর আগেই আমার বাসায় পর্যন্ত লোক গেছিলো। সেন্ট্রাল নাসির ভাই ফোন দিছে, অনেক হুমকি। পরে আর পারিনি।”
ভাইরাল হওয়া এসব স্কিনশটের বিষয়ে সুজন চন্দ্র সুকুলের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি নোটিশ গ্রুপে এমন কোনো আলাপচারিতার কথা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডির নিয়ন্ত্রণ অন্য কেউ নিয়ে এসব বার্তা ছড়িয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর থেকে তার ফেসবুক আইডি ডিএকটিভ করা আছে বলেও দাবি করেন। সুজন বলেন, দুইদিন আগে আইডি একটিভ করেছি আমি।
তার এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সুজন চন্দ্র সুকুলের ফেসবুক আইডিতে যাওয়া হয়। ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ২ দিন পর ৩১ ডিসেম্বর সুজন তার ফেসবুক আইডিতে নতুন প্রোফাইল ছবি আপলোড দেন। যেটি তার দাবির সাথে সাংঘর্ষিক।
এদিকে সুজনের একই বিভাগের ও একই ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে নোটিশ গ্রুপের আলাপচারিতার স্কিনশটের সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নোটিশ গ্রুপ থেকে একই আলাপচারিতার স্কিনশট সংগ্রহ করা হলে সেগুলোর সঙ্গে ভাইরাল হওয়া স্কিনশটের মিল পাওয়া যায়।