বছরের শুরুতেই সাধারণত জমে ওঠে পুস্তক ব্যবসার মৌসুম। নতুন শিক্ষাবর্ষকে কেন্দ্র করে জানুায়ারি মাস থেকেই সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে বইয়ের দোকানগুলো। তবে চলতি বছর সরকারি বই বিতরণে বিলম্ব এবং সহায়ক বা গাইড বই ছাপানোর অনুমতি না থাকায় যশোরের পুস্তক বাজার এখনো পুরোপুরি স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার এখনো সরকারি স্কুলগুলোতে বোর্ডের বই পুরোপুরি বিতরণ করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময় সহায়ক বই ছাপানোর অনুমতি পাওয়া যায়নি। এতে করে বছরের শুরুতে যে ব্যবসার গতি থাকার কথা ছিল, তা এখনো শুরুই করা সম্ভব হয়নি।
যশোর শহরের পরিচিত বইয়ের দোকান বই বিচিত্রার স্বত্বাধিকারী রুবেল হোসেন বলেন, এই সময়ে সাধারণত আমাদের প্রতিদিন ভালো পরিমাণে বই বিক্রি হয়। কিন্তু এখন যে অল্প কিছু বই বিক্রি হচ্ছে, তা দিয়ে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করার পর আর কিছুই থাকে না। নোট, গাইড বা সহায়ক বই বাজারে না আসা পর্যন্ত আমাদের ব্যবসার অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। একই কথা জানান আশা বুক ডিপোর মালিক নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, বছরের শুরু হলেই বই ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় শুরু হয়। কিন্তু এবার সেই চিত্র নেই। সরকারি অনুমতি না থাকায় নতুন গাইড ও সহায়ক বই ছাপানো যাচ্ছে না। আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি কবে বই বের হবে, কবে ব্যবসা শুরু হবে।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি এবং হাসান বুক ডিপোর পরিচালক জসীমউদ্দীন খান বলেন, যশোর জেলায় আমাদের সমিতির আওতায় মোট ২২৬টি লাইব্রেরি ও বইয়ের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি যশোর শহরে অবস্থিত। যশোর মুসলিম একাডেমি বই মার্কেট জেলা শহরের অন্যতম বড় বইয়ের বাজার হলেও বর্তমানে এখানে ক্রেতাদের উপস্থিতি খুবই কম।
তিনি আরও বলেন, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের কিছু বই এবং অন্যান্য কয়েকটি বই কিনতে মাঝে মাঝে ক্রেতারা আসছেন। তবে স্কুলভিত্তিক বইয়ের বাজার পুরোপুরি বন্ধ বলা যায়। সরকার এখনো সব সরকারি স্কুলে বোর্ডের বই বিতরণ সম্পন্ন করতে পারেনি। সব বই বিতরণের পরই সহায়ক বই ছাপানোর অনুমতি দেয়া হয়। এতে করে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস লেগে যেতে পারে।