সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, জুলাই সংস্কারের প্রচার করে ক্ষমতায় এসে বিএনপি এখন ১৮০ ডিগ্রি পল্টি মেরেছে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। যারা জুলাই সংস্কার থেকে দূরে সরে গেছে, তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে রাকসু আয়োজিত “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ” শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তাদের আচরণ দেখে মনে হয়, তারা সংবিধান সম্পর্কে জানে না। ৫ আগস্টের পর দেশের জনগণ কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করে না। বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতির সিস্টেম থেকে মুক্তি চেয়েছে। যদি মানুষকে আবারো গুম করতে না চান, তাহলে ‘গুম অধ্যাদেশ’ আইনে রূপান্তর করতে হবে। যদি তা করতে পারেন, তাহলে রক্তের দাম দিন, আমার মায়ের আর্তনাদ ফিরিয়ে দিন। হঠাৎ করে বিদেশ থেকে এসে পার্লামেন্টে চুপ মেরে বসে থাকবেনÑ এমন আচরণ কি জাতি মেনে নেবে?
সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাকসু’র ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং পরিচালনা করেন রাকসু’র বিতর্ক সম্পাদক ইমরান লস্কর। আরো আলোচনা করেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, রাকসু’র জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, কথাসাহিত্যিক ডা. নাজিব ওয়াদুদ, সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফাহিম রেজা প্রমুখ। অ্যাড. শিশির মনির আরো বলেন, অতীতে একটি পোস্ট দিলে রাত ১২টায় ডিজিএফআই বাসায় হাজির হতো। এখনো তাই হচ্ছে। এর নাম ফ্যাসিবাদ। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্রসমাজ যদি আবারো জেগে উঠে তাহলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে উপায় থাকবে না। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক প্রশ্ন সংবিধানের দোহাই দিয়ে, অজুহাত দিয়ে আমাদেরকে কাঁঠাল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। এই সংবিধানের কাঁঠাল জপতে জপতে ওবায়দুল কাদেররা আজ কলকাতার আইসিইউতে রাত কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, যদি শিক্ষা না নেন তাহলে আপনাদেরকেও (বিএনপি) ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ১৭ বছরের জুলুম নির্যাতনের ইতিহাস এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন?