টঙ্গীর আল-হেলাল স্কুলে বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম. আবদুল্লাহ বলেন, দেশকে অপসংস্কৃতির হাত থেকে মুক্ত করতে গিয়ে শহীদ ওসমান হাদীকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চৌদ্দশ শহীদের আত্মদান ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা একটি তুলনামূলক মুক্ত পরিবেশে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, যা আমাদের জন্য বড় অর্জন হলেও দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, গত সতেরো বছরে পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল, একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে প্রতিবেশী একটি দেশের আদলে সাজানোর অপচেষ্টা চালানো হয়, যার প্রভাবে তরুণ প্রজন্ম শিক্ষাবিমুখ হয়ে পড়ে। যে অপসংস্কৃতি সামাজিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও শিক্ষাভিত্তিক সংস্কৃতিকে পুনর্গঠন করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক শাওন আহমেদ জয়ের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টঙ্গী পশ্চিম থানার আমীর আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক নয়াদিগন্তের সাংবাদিক মো. আজিজুল হক, গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন টঙ্গী পশ্চিম থানার সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক নেয়ামত উল্লাহ, উত্তরা টেকনিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক, এস. এম. মাহবুব, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক, মোজাম্মেল হক পাটোয়ারী, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আল আমিনসহ আরও অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে টেনে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃত্রিমভাবে ফলাফল মেনুপুলেট করে পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা থেকে সরে আসা হয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে কম পাস মনে হলেও বাস্তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের একটি প্রয়োজনীয় ধাপ। তিনি বলেন, অটো পাসের সংস্কৃতি পরিহার করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার টেবিলে ফেরাতে পারলে ভবিষ্যতে প্রকৃত অর্থেই ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আল-হেলাল স্কুল থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী এবং মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে বিকেলে শিক্ষক ফারজানা আক্তার ও জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।