ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি) বিকাল ৫টায় ফজলুল হক মুসলিম হল মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বাস্তবায়নে ছিল ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদ।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল কোরআন একাডেমি, লন্ডনের চেয়ারম্যান হাফিজ মুনির উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জুবায়ের মোহাম্মদ এহসান হক।

ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা; ক্যারিয়ার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম; সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।

এছাড়াও ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান ও এজিএস মহসিন সাফি সহ হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা ঐতিহাসিক বদর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুসলিম উম্মাহর জন্য এ দিনের শিক্ষা ও প্রেরণার কথা উল্লেখ করেন।

হাফিজ মুনির উদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে পবিত্র কুরআনের মহত্ব এবং মানুষের মাঝে কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুরআনের আলো মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ড. জুবায়ের মোহাম্মদ এহসান হক বলেন, বদরের চেতনা থেকে প্রেরণা নিয়ে মুসলিম জাতি যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যায়, তবে উম্মাহর মুক্তি ও উন্নতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ সময় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, বদর দিবসকে কোনো নির্দিষ্ট দলের ট্যাগ দিয়ে সংকীর্ণ করার চেষ্টা ইতিহাসের সঠিক উপলব্ধির পরিপন্থী। বদর কোনো গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়; এটি প্রতিটি ঈমানদারের বিজয়ের স্মারক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার খাতিরে যারা বদরের মতো পবিত্র ইতিহাস নিয়ে বিদ্রূপ করে, তাদের এই মানসিকতা নিন্দনীয়। ইসলামের বিজয়গাথা নিয়ে উপহাস করা মূলত ঈমানি দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, বদরের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই আজ মুসলিম উম্মাহ নানা সংকট ও পরাজয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। তাই মুসলমানদের জীবনে বদরের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত প্রোগ্রামে আল কোরআন একাডেমি, লন্ডন এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কোরআন উপহার দেয়া হয়। এবং আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।