জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযেক্তের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ও উপাচার্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার লক্ষ্যে নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করেন বামপন্থী শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৭ মে) সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভিতরের একটি ফটক ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন তারা।

এসময় আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনিক ভবন অবরোধ থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের যেন ভোগান্তি না হয়, তাই কাজ থাকলে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে।

অবরোধকাকালে আন্দোলনকারী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহমিদা মুন বলেন, ‘আমাদের যে ছয় দফা দাবি ছিল এর মধ্যে প্রথম দফা দাবি ছিল ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষককে ধরতে হবে। যদি উনারা ধরতে ব্যর্থ হন, তবে প্রক্টরসহ পুরো প্রক্টোরিয়াল বডি পদত্যাগ করবে। কারণ উনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক যতগুলা ইনসিডেন্ট হয়ে গেছে সেই দায়ভারটা কার? আমাদের রেজিস্ট্রারে তালা দেওয়া থাকবে। উনারা আমাদেরকে এসে নিশ্চিত করে যাবে যে আর কত ঘন্টা সময় লাগবে ধর্ষককে ধরতে। প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদেরকে এটা নিশ্চিত করে দিয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখানে থাকব।’

অবরোধকাকালে আন্দোলনকারী জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আদৃতা রায় বলেন, ‘আমরা দেখছি প্রশাসনের এই আন্দোলনে কিংবা এই পুরো ঘটনা নিয়ে যে ধরনের বিবেচনাবোধ বা দায়িত্ববোধ দেখানোর কথা ছিল তার বিন্দুমাত্র তারা দেখাচ্ছে না। আমরা ভিসি স্যারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনি ও জিজ্ঞেস করি যে এই মুহূর্তে তদন্ত প্রক্রিয়া কিংবা গ্রেফতার প্রক্রিয়ার আপডেট কী? স্যার আমাদের কোন প্রকার আপডেট জানাতে পারেন না।’

তিনি আমাদের বলেন, ‘যে অগ্রগতি হচ্ছে কিন্তু কি অগ্রগতিটা হচ্ছে সেটা তিনি জানাতে পারেন না। আমরা আজকে এখানে অবস্থান করছি ভিসি স্যারের সাথে আবার কথা বলার জন্য তিনি যাতে আসেন। আমরা চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছি সর্বোচ্চভাবে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে যেটা আমাদের বোনের যে বিচার প্রাপ্য সে বিচার নিশ্চিত এবং ১০৬ ঘন্টা কেটে গেল এর মাঝে যে কোন প্রকার কার্যক্রম আমরা আসলে দেখতে পাচ্ছি না এবং যা বলা হচ্ছে সে মূলত বুঝ দেয়াই হচ্ছে। অগ্রগতি হচ্ছে, আপডেট হচ্ছে, কাজ করছে কিন্তু কি কাজ হচ্ছে কি অগ্রগতি হচ্ছে সেটা কিছুই জানানো হচ্ছে না। সেটার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা আজকে আমাদের এখানে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’

উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকারে কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যান। এরপর থেকে অভিযুক্তের শাস্তি ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।