দেশের ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রথমেই শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি অসম্ভব। তিনি আরও বলেছেন, শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যতœবান হতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে এসোসিয়েশন ফর ম্যাস এডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক -আমান আয়োজিত ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। আমান'র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, ইকো ইউএসএ'র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম,মানারাত ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন,সারা বিশ্বে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘এর কারণ শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া সভ্যতা আসে না। শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যতœবান হওয়া উচিত বলে মনে করেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার উন্নয়নে আমি একটি কথা বলি, যার যার দায়িত্ব আমরা ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা অসামান্য সাফল্য অর্জন করতে পারি। এখানে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পড়ালেখা করা। পাঠে মনোযোগী হওয়া। হোমওয়ার্ক নিয়মিত করা। শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পাঠদান করা। সততার শিক্ষা দেয়া। আর পরিবারের দায়িত্ব সন্তানকে শিক্ষালয়ে পাঠানো। হোমওয়ার্ক করছে কি না দেখা। সন্তান কার সাথে মিশছে নজর রাখা।’
অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি হলেও অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে মনে করেন দায়িত্ব শেষ- এটা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাদের গনি চৌধুরী সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তার বক্তব্যে- ‘পরিবার হলো একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পরিবারকে বলা হয় ‘জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার’। পরিবার হলো ‘শাশ্বত বিদ্যালয়’, ‘চিরন্তন মাতৃসদন’। মানুষ তার সামগ্রিক জীবনে যত জ্ঞান, শিক্ষা, ঐশ্বর্য অর্জন করে তার সূচনাই হয় পরিবার থেকে। মায়ের কোলে হয় শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি। তাই সন্তানের মূল্যবোধ, চরিত্র, চেতনা ও বিশ্বাস জন্ম নেয় পরিবার থেকেই।
‘একাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষিত হওয়া যায়, কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। তখন অর্জিত সব জ্ঞান-গরিমাই ম্লান হয়ে যায়। কেননা সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা বোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মানসিকতাÑএগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। এগুলোর ভিত্তি প্রোথিত হয় পারিবারিক মূল্যবোধ লালনপালন ও সুশিক্ষার মাধ্যমে।’ বলেন সাংবাদিক নেতা।
সন্তানের এই বেড়ে ওঠার পথে অভিভাবকের কর্তব্য ও করণীয় সম্পর্কে বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, ‘একটা ধারণা প্রচলিত আছে, পরিবার আদর্শ হলে সেই পরিবারের সন্তানও আদর্শ হয়ে গড়ে ওঠে। বস্তুত একটি শিশু যখন হাত-পা নাড়তে শেখে, তখন থেকেই সে পরিবারের কাছ থেকে শিখতে শুরু করে। তাই বাড়ন্ত শিশুকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভালো-মন্দ বিষয়ে অবহিত করতে হয়। তার সঙ্গে নরম সুরে, মার্জিত আচরণে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে হয়। শিশুদের মন-মানসিকতা থাকে খুবই কোমল, তাই খুব সহজেই যেকোনো বিষয় তারা শিখে নিতে পারে। বড়দের কর্তব্য, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা, তাহলে সে সবকিছুই বাবা-মার সঙ্গে শেয়ার করবে। যে সন্তান শেয়ার করতে শিখবে সে কখনো আদর্শহীন হবে না।’
দাউদ মিয়া বলেন,প্রশিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছাড়া যেমন শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়, তেমনি মানসম্পন্ন শিক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা তথা টেকসই উন্নয়নও সম্ভব নয়। শিক্ষা হলো শিশুর উর্বর মস্তিকে বীজ বপনের মতো। প্রক্রিয়াগতভাবে এখানে যা-ই বপন করা হবে, তাই ফলবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানসম্মত শিক্ষার ধারণা একটি ব্যাপক বিষয়। শিক্ষা আদান-প্রদান একটি জটিল প্রক্রিয়া, এর সংক্ষিপ্ত কোনো পদ্ধতি নেই। মানসম্মত শিক্ষার ধারণায় শিশুরা সিলেবাস শেষ করল কি না সেটি মুখ্য বিষয় নয়, শিক্ষার্থীরা কী শিখল সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের শিক্ষার মান দিন দিন তলানিতে গিয়ে ঠেকছে উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে যেসব তথ্য উঠে আসছে তা খুবই উদ্বেগজনক। কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংকের তথ্যে জানা গেল, বাংলাদেশের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মান আন্তর্জাতিক মানদ-ে সপ্তম শ্রেণির সমান। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্নাতক সনদ ফাউন্ডেশন কোর্সের সমান। তিনি বলেন,পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে বটে, কিন্তু মান বাড়েনি। শিক্ষার মান উন্নয়ন ছাড়া জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। সরকারের সঠিক উদ্যোগ ছাড়া এ থেকে মুক্তির উপায় নেই। সরকার যেন সঠিক কর্মপদ্ধতি হাতে নেয় তার জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।