সম্প্রতি বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া নিকাববিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। তারাই অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ও সাধারন নারী শিক্ষার্থীরা।

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদ ঢাবি ছাত্রী সংস্থার

সম্প্রতি বিএনপি নেতা কর্তৃক নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদ ও শহিদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যে পাদদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী ও ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, অব্যাহতভাবে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি এটা শুধু সাধারণ মানুষ করছে না, একটা বিশেষ দলের নেতাকর্মীরা এধরণের মন্তব্যের সঙ্গে জড়িত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমার নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কত কথা দেখতে পাই। কিন্তু যখনই একজন নারী প্রতিনিধি সম্মিলিতভাবে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হন তখন কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখতে পাই না। আবার যখনই আপনাদের মুখেই নারীর অধিকারের বুলি শুনি তখন বেশ হাস্যকর শুনায়।

আমার ছাত্রী সংস্থার পক্ষ থেকে বলতে চাই, কোনো নারীর পোশাক নিয়ে কথা বলা যাবে না, নারীর ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত আনা যাবে না, নারীর পোশাকের স্বাধীনতায় বাঁধা দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে হিজাবি নিকাবি যারা আছেন তাদেরকে অপমান করা যাবে না।

শহিদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চেয়ে তিনি বলেন, শহিদ ওসমান হাদীর খুনি শনাক্ত হয়ে গেছে, আমাদের সামনে এসেছে কিন্তু তাকে কেন এখনো ধরা হচ্ছে না। খুনি যদি প্রকৃতপক্ষেই দেশের বাইরে থাকে তাহলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ধরে আনা হোক। তার হত্যার পেছনে কারা ছিল, কে মদদ দিয়েছিল সব কিছুই আমাদের সামনে আনতে হবে। সেই সঙ্গে বিচারের সম্পূর্ণ রুটম্যাপ আমাদের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে জবি ছাত্রী সংস্থার মানববন্ধন বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া নিকাববিরোধী কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থা।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন সংগঠনটির নেত্রী ও সমর্থকরা। এ সময় জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং জবি শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী মোছা. সুখীমন খাতুন বলেন, ‘হিজাব মুসলিম নারীদের পোশাক এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু নিকাব মুসলিমদের কোনো ড্রেস নয় এমন মন্তব্য আসলে বিভ্রান্তিকর।

‎তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মুসলিম হিসেবে তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী সংস্কৃতির অংশ হিসেবে পরিপূর্ণ পর্দা পালন করতে চান, তাহলে সেখানে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। এটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়।’

‎ ‎মানববন্ধনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা সবার প্রতি আহ্বান জানাতে চাই সম্প্রীতির বাংলাদেশে যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম ও ধর্মীয় সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে। ইসলামী সংস্কৃতি অনুযায়ী পরিপূর্ণ হিজাব ও নিকাব পালন নিয়ে যেন কোনো কটূক্তি বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য না করা হয় এবং সবাই আমাদের প্রতি সহমর্মী হয়।’

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার অবমাননাকর বক্তব্যে জাবিতে ইসলামি ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

জাবি সংবাদদাতা : নিকাব নিয়ে ‎বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‎মানববন্ধনে জাকসুর কার্যকরী সদস্য ফাবলিহা জাহান বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা কোনোভাবেই হিজাব-ফোবিয়া বা ধর্মীয় বিদ্বেষ বরদাশত করব না। গত ২৪-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যখন আমরা মানবিক মর্যাদার কথা বলছি, তখন তথাকথিত বিএনপি নেতা মোশারফ আহমেদ ঠাকুরের নিকাববিরোধী কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। মুসলিম নারীদের নিকাব ও হিজাব আমাদের আত্মপরিচয় ও সম্মানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আমাদের এই পবিত্র পোশাককে ইহুদিদের বেশভূষার সাথে তুলনা করে যে কুরুচিপূর্ণ ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।

সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রী সংস্থার জাবি শাখার সভানেত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। এসময় তিনি বিএনপি নেতাকে আগামীতে এধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থেকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একইসাথে এবিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চান ও নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিএনপি নেতার হিজাব-নিকাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ইবির নারী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ইবি সংবাদদাতা: বিএনপি সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নেতা কর্তৃক হিজাব ও নিকাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করে তারা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাহিনা রিনি বলেন “আমাদের সুশীল সমাজ কেন জানি এই বিষয়ে খুব চুপ হয়েছিল। কেন তারা চুপ হয়েছিল? এখানে আমরা বলতে চাই যে, যখন একটি সংগঠনের পদধারী নেতা এমন কথা বলেন, তখন সেই সংগঠন তার বিরুদ্ধে কী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে? তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে আপনারা সেই ব্যক্তিকে সমর্থন করছেন নাকি ইসলামী সংস্কৃতিকে ধারণ করছেন?

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মিম বলেন, পোশাকের স্বাধীনতা বলতে শুধু জিন্স বা ওয়েস্টার্ন পোশাক নয়; ফ্রক পরা মেয়ে যেমন স্বাধীন, তেমনি বোরকা ও নেকাব পরা মেয়েরও সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে। একটি মুসলিম দেশে শুধু ওয়েস্টার্ন কালচারের পোশাককে স্বাধীনতার মানদণ্ড বানানো লজ্জাজনক। বোরকা হোক বা জিন্স নারীর পোশাক নিয়ে বিভাজনমূলক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, “আমরা দেখতে চাই, বিএনপির যে নীতিনির্ধারকরা আছেন, তারা এই নেতার বিরুদ্ধে কী অ্যাকশন নিচ্ছে। অথবা আমরা ধরে নেব, সাধারণ জনগণ ধরে নেবে যে তাঁর এই বক্তব্যকে বিএনপি ধারণ করে, লালন করে। যদি এরকম পর্যায়ের নেতা যদি সংসদে যায় তাহলে আমার মনে হয় আমি নিকাব করার কারণে আমি গ্রেফতার হতে পারি।