নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থা।
মঙ্গলবা (১৩ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জাকসুর কার্যকরী সদস্য ফাবলিহা জাহান বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা কোনোভাবেই হিজাব-ফোবিয়া বা ধর্মীয় বিদ্বেষ বরদাশত করব না। গত ২৪-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যখন আমরা মানবিক মর্যাদার কথা বলছি, তখন তথাকথিত বিএনপি নেতা মোশারফ আহমেদ ঠাকুরের নিকাববিরোধী কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। মুসলিম নারীদের নিকাব ও হিজাব আমাদের আত্মপরিচয় ও সম্মানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আমাদের এই পবিত্র পোশাককে ইহুদিদের বেশভূষার সাথে তুলনা করে যে কুরুচিপূর্ণ ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা দেখেছি, কীভাবে হিজাব পরার কারণে নারীদের পরীক্ষার হলে, কর্মক্ষেত্রে কিংবা ভাইভা বোর্ডে অপদস্থ হতে হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো-জুলাই বিপ্লবের পরেও এই হেনস্থা এখনো চলমান। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের ওপর কোনো আঘাত আমরা মেনে নেব না।
মানববন্ধনে বেগম রোকেয়া হল সংসদের এজিএস ফাহমিদা সুলতানা সওদা বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে হিজাব ও নিকাব নিয়ে এমন কটূক্তি অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্য পোশাক নিয়ে বিতর্ক হলে প্রতিবাদ হলেও হিজাবধারীদের হেনস্থার বিরুদ্ধে তেমন সোচ্চার হতে দেখা যায় না। ভাইভা বোর্ডে নিকাব খুলতে বাধ্য করা বা এর কারণে ফেল করিয়ে দেওয়ার মতো বৈষম্য চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রী সংস্থার জাবি শাখার সভানেত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। এসময় তিনি বিএনপি নেতাকে আগামীতে এধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থেকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একইসাথে এবিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চান ও নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।