জবি সংবাদদাতা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের নতুন তারিখ আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে সারাদিন বিক্ষোভ মিছিল ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল ছিল পুরো ক্যাম্পাস। পরে দুপুর ১টার দিকে আবারও জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

নতুন তারিখ ঘোষণা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, “জকসুর নতুন তারিখ ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ওই তারিখে নির্বাচন আয়োজন করতে গেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন হবে।”

এদিকে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার পরপরই জবির ভাস্কর্য চত্বর প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম সমর্থিত ‘মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে জকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন।

এরপর ভিসি ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। প্রথমে তারা জকসু নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দেন। কিছুক্ষণ পর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ভিসিসহ পুরো প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অপরদিকে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা এর বিরোধিতা করে বলেন, আগে নির্বাচন দিতে হবে, পরে প্রশাসনের পদত্যাগের বিষয় আসবে। তারা বলেন, সবাই পদত্যাগ করলে জকসু নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়বে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলে। বেলা ১২টার দিকে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও বাম সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জকসু নির্বাচন স্থগিতের পেছনে বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট সভায় চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচন স্থগিত করতে ভিসিকে বাধ্য করা হয়েছে। একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে তালা দেন। এ সময় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান, জবি সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিনসহ বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভেতরে আটকা পড়েন। তখন শিক্ষার্থীরা ‘রইস না জকসু’, ‘জকসু জকসু’, ‘জকসু আমার অধিকার’, ‘রইস তুই গদি ছাড়’, ‘রইসের দালালেরা হুঁশিয়ার’, ‘হারার ভয়ে খেলে না—সেই কথা তো বলে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে বিকাল ৩টায় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এরপর বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে বামপন্থী ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’, বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ এবং ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে। সব প্যানেলই নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, নির্বাচনের মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে অসম্মান করা হয়েছে।