সৌরভ আহমেদ সাগর, মার্কেটিং বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশে চাঁদাবাজি একটি পুরানো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। এটি শুধু আমাদের জনজীবনেই না বরং পুরো সরকার ব্যবস্থার উপর নীতিবাচক প্রভাব ফেলে । তরুণরা একটি সচেতন, তথ্যভিত্তিক এবং চাঁদাবাজ বিহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে। আমাদের মত তরুণদের কাছে চাঁদাবাজি শুধু অর্থ আদায়ের অপরাধ নয়, বরং এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয়ের প্রতিফলন। চাঁদাবাজি দমনে আমার মত তরুণদের কিছু নিদের্শনা। প্রথমত, আমরা মনে করি, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সবচেয়ে দরকার আইনের সঠিক ব্যবহার। শুধু আইন থাকলেই হবে না, সেটার বাস্তব প্রয়োগ না হলে অপরাধ কমে না। তাই, কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই সঠিক তদন্ত হোক, মামলা যেন ঝুলে না থাকে, আর অপরাধীরা এমন শাস্তি পাক যাতে অন্যরা ভয় পায়। পাশাপাশি আমরা স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতার ওপর জোর দিতে আহ্বান করি, যেন ক্ষমতার জোরে কেউ অপরাধ করে সহজে রেহাই না পায়। দ্বিতীয়ত, বেকারত্ব আর কাজের সুযোগ না থাকাই চাঁদাবাজির বড় কারণ। তাই শুধু কঠোর শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমার মতে, মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা, দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা আর নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া জরুরি। এতে সবাই অর্থনৈতিকভাবে যুক্ত হতে পারবে, আর তখন অপরাধের পথে যাওয়ার প্রবণতাও ধীরে ধীরে কমে যাবে। তৃতীয়ত, আমি মনে করি, প্রযুক্তি ব্যবহার করলে চাঁদাবাজি ঠেকানো অনেক সহজ হতে পারে। যেমন অনলাইনে অভিযোগ করার ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা, ডিজিটাল নজরদারি আর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের ওপর নজর রাখা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা ও ঘটনা প্রকাশ করলে সামাজিক চাপ তৈরি হয়, এতে অপরাধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সবশেষে, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সামাজিক মূল্যবোধ আর নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগানো খুব দরকার। পরিবার, স্কুল,কলেজ আর গণমাধ্যম যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন মনোভাব তৈরি করে, তাহলে চাঁদাবাজি আর সমাজে সহজে মেনে নেওয়া হবে না। তরুণরা চান, আইনকানুন, অর্থনৈতিক সুযোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার আর নৈতিক শিক্ষাকে একসাথে নিয়ে কাজ করা হোক। এখানে শুধু রাষ্ট্র নয়, সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজকেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।