নির্বাচন ডেস্ক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে উঠেছিল। দেশের কোটি মানুষের মনে জন্ম হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহস ও অদম্য চেতনা সেই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ ছোটো-বড় বিভিন্ন দল ইতোমধ্যেই ইশতেহার বা ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এসব ইশতেহারে কতটুকু গুরুত্ব পাচ্ছে জুলাই বিপ্লবের চেতনা, কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষা, এবং ভোটারদের জন্য সামনের দিনের প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য।
জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে বৈষম্যহীনতা, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি জুলাই বিপ্লবের মূল দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্যদিকে বিএনপির ইশতেহারে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয়।
গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকারও জুলাইয়ের চেতনার প্রতিফলন। সব মিলিয়ে বলা যায়, উভয় দল নীতিগতভাবে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তবায়নের আন্তরিকতার ওপর।